
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উৎপাদনশীল খাতের বিকাশ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নেতৃদ্বয় বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগ সংকট ও বাজার ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে প্রণীত এ বাজেটে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, রপ্তানি খাত এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের বিকাশে যে নীতিগত সহায়তার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তা দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি প্রদান করবে।
তারা বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী করার যে উদ্যোগ বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করবে। বিশেষ করে উৎপাদন ও বিনিয়োগমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
নেতৃদ্বয় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রণয়নের জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে এত ব্যাপক পরিসরের বাজেট প্রণয়ন সরকারের আত্মবিশ্বাস ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই প্রতিফলন। তারা দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, কৃষক, শ্রমিক, তরুণ উদ্যোক্তা ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে অর্থনীতির প্রতিটি চালিকাশক্তি নতুন উদ্যমে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণেও এ বাজেট ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।
চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে উল্লেখ করে নেতৃদ্বয় বলেন, বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ এ বাজেটের মাধ্যমে সৃষ্টি হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
নেতৃদ্বয় বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, উৎপাদনশীল শক্তির বিকাশ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে প্রত্যয় এ বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে, তা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়ে এই বাজেট দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এরশাদ উল্লাহ এমপি ও নাজিমুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিধি বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।







