প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সরকারি সেবা থেকে মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব– ভূমি প্রতিমন্ত্রী

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সরকারি সেবা থেকে মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব-- ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও অটোমেশনের মাধ্যমে সরকারি সেবা খাত থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং দুর্নীতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব ।
আজ শনিবার চট্টগ্রামে খুলশী কনভেনশন হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) আয়োজিত ‘বিপিও সামিট ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘হোয়ার ট্যালেন্ট মিটস গ্লোবাল অপরচুনিটি’ (Where Talent Meets Global Opportunity)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নিজের দীর্ঘ ২২ বছরের আইনি পেশা এবং রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমপি যখন ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’ গঠন করেছিলেন, তখন মূল দর্শনই ছিল দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা এবং তাদের জন্য একটি সঠিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে তরুণদের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেই প্রতিকূল সময়ে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সাথে নিয়ে সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা সত্য ও সঠিক ন্যারেটিভ তুলে ধরেছিলাম।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ সেবা এখন অটোমেটেড বা অনলাইন করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। ‘ভূমি’ (BHUMI) অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই টেক্স প্রদান, নামজারি (মিউটেশন) সহ বিভিন্ন আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য দেশব্যাপী ৮৯৩টি ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী অত্যন্ত স্বল্প খরচে নাগরিকরা অনলাইন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে যুগান্তকারী প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ে আমরা ‘জিও ফেন্সিং’ (Geo-fencing) প্রযুক্তির সাহায্যে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে একটি অ্যাপের পাইলটিং শুরু করেছি। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের ভূমি কর্মকর্তা অফিস চলাকালীন (সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা) কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেড মার্ক বা লাল সংকেত চলে আসবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অত্যন্ত কম খরচে প্রান্তিক পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
দেশের ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের মেধার প্রশংসা করে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী। প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো সহযোগিতা ছাড়াই স্বশিক্ষিত হয়ে তারা ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে বিশ্ব দরবারে অবদান রাখছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি এই তরুণদের আরো কিছু বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।
আইটি খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা ও তরুণদের সেন্টিমেন্ট বুঝতে বেসরকারি খাতকে সাথে নিয়ে পলিসি ম্যাকিং বা নীতিমালা তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি’র দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আমরা যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চাচ্ছি, সেই অগ্রযাত্রায় তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও আইটি পেশাজীবীরাই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের (উপসচিব) আবদুল্লাহ আল মামুন , বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম; এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মোঃ তানজিরুল বাসার, অর্থ সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুসনাদ-ই-আহমদ, পরিচালক আবু দাউদ খান, পরিচালক আব্দুল কাদের এবং পরিচালক সায়মা শওকত।
এ সামিটে অংশগ্রহণ করেন সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং তরুণ পেশাজীবীরা।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কন্ট্যাক্ট সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) দেশের বিপিও ও আইটিইএস শিল্পের একক ও কেন্দ্রীয় বাণিজ্য সংগঠন। বর্তমানে ৫০০-এর অধিক সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী এ সংগঠন দেশের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা রপ্তানি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। “বিপিও সামিট বাংলাদেশ” দেশের বিপিও শিল্পের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হিসেবে ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এবারের সামিটও দেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email