
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার রাতেও শুরুটা সুখকর ছিল না লিওনেল মেসির জন্য। ম্যাচের প্রথম দিকেই পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সেই হতাশাকেই শক্তিতে পরিণত করে পরে জোড়া গোল করেন তিনি, আর তার হাত ধরেই অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের নবম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজকে বক্সের ভেতরে ফেলে দিলে প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন রেফারি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলে আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি দেন তিনি। বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ সামনে থাকলেও স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি মেসি।
তবে পেনাল্টি মিসের হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮ মিনিটে নিজেই আক্রমণের সূচনা করে দুর্দান্ত এক ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান।
এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে আবারও আঘাত হানেন মেসি। ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয় এবং মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৮-তে।
ম্যাচ শেষে জয়ের গুরুত্ব নিয়েই বেশি কথা বলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তিনি বলেন, “আমি এই জয়ের জন্য সত্যিই খুব খুশি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জয় ছিল। আমরা কঠিন লড়াই করে এবং যোগ্য দল হিসেবেই এই জয় পেয়েছি। সামনের ম্যাচগুলোর আগে এটি আমাদের অনেক স্বস্তি দিচ্ছে।”
নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পর দলের ওপর থেকে চাপও কমেছে বলে মনে করেন মেসি। তার ভাষায়, “এটাই বিশ্বকাপ। এখানে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আমরা ছয় পয়েন্ট পেয়েছি এবং নকআউট নিশ্চিত করেছি। এখন অন্তত কিছুটা স্বস্তি নিয়ে সামনে তাকাতে পারব।”
তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে আলোচিত ছিল তার পেনাল্টি মিস নিয়ে মন্তব্য। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার রাতে মেসি মজার ছলেই বলেন, “পুরো ব্যাপারটা যেভাবে ঘটেছে, সেটা সত্যিই সুন্দর। আজ আমি পেনাল্টি পেয়েছিলাম, যেটা থেকে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারতাম। কিন্তু আমি যদি সেই পেনাল্টিতে গোল করতাম, তাহলে হয়তো পরে বাকি দুটি গোল পেতাম না। আপনি কখনোই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। তবে ফলাফল, পারফরম্যান্স এবং দলের কাজ নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট।”







