
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের হাতে স্মৃতি স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক, নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি, চমেক হাসপাতালের অ্যাডহক কমিটির সদস্য লায়ন সালাউদ্দিন আলী এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন এবং ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল শহীদ ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এ স্মারক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন, সম্মান এবং পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের হত্যাকারীদের দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় বিচার করা হবে। তবে বিচার কার্যক্রমে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অন্যায়ের শিকার না হন, সে বিষয়েও সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সম্মান, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, জীবনমান উন্নয়ন এবং পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তাঁদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, লায়ন সালাউদ্দীন আলী, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে স্মৃতি স্মারক তুলে দেন। পরে শহীদ ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে স্মৃতি স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।







