
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তরের উদ্যোগে ‘সেরা গবেষণা নিবন্ধ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান এবং গবেষণা কর্মশালা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের অডিটোরিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমাদের রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেল গত কয়েক বছর ধরে যে বেস্ট রিসার্চ আর্টিকেল অ্যাওয়ার্ড প্রদান আয়োজন করে আসছে, এটি নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের স্বীকৃতি গবেষকদের আরও উৎসাহিত করে, নতুন গবেষণায় অনুপ্রাণিত করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে।
তিনি বলেন, আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি, আমাদের প্রাণের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র্যাংকিংয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করুক। সেই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অবদানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে যে অর্জন তৈরি হচ্ছে, সেটিই বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সুদৃঢ় করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। মাননীয় উপাচার্য ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ বা প্রয়োগমুখী গবেষণার গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণ গবেষণা হচ্ছে, যা অবশ্যই আনন্দের বিষয়। তবে আমাদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এমন গবেষণায়, যা দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা সৃষ্টি করবে, নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবে এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম হবে। গবেষণার প্রকৃত সাফল্য এখানেই। তিনি বলেন, আজ যারা এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে গবেষণা ও প্রকাশনা সেলকে এমন একটি সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানাই।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই সম্মাননা শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি গবেষকদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আস্থা, স্বীকৃতি এবং গবেষণার উৎকর্ষের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। এ ধরনের স্বীকৃতি গবেষকদের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করবে এবং তাঁদের নতুন নতুন গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞান সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করবে। এর মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত গবেষকের সাফল্যই নয়, সমৃদ্ধ হবে আমাদের একাডেমিক অঙ্গন এবং আরও উজ্জ্বল হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শাহাদাত হোসেন, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ. এম. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী ও ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান।
চবি রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শেখ আফতাব উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। অনুষ্ঠানে রিসার্চ সেলের সদস্যবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, গবেষক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ‘বেস্ট রিসার্চ আর্টিকেল অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য বিভিন্ন অনুষদের ছয়জন গবেষক নির্বাচিত হয়েছেন। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ থেকে ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেসের প্রফেসর ড. ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আওলাদ হোসেন সাগর, বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কাওসার আলম, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ কাজিম নূর সোহাদ, প্রকৌশল অনুষদের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. জামাল উদ্দিন আহামেদ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. রুমানা আক্তার এ সম্মানজনক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।







