জনগণই বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

জনগণই বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। আর জনগণের সমর্থন থাকলে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে। আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।

রবিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও হাটহাজারী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপাড় এবং পার্বতী স্কুল মাঠে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম যে, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয় তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল এ দেশের মায়েদের সহযোগিতার জন্য, এ দেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাব। যেটি আমির খসরু সাহেব উনার বক্তব্যে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম, মাতারবাড়ীতে পুরো দেখে আসলাম। মীরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টারে আমি দেখেছি। কেন দেখেছি? কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক হচ্ছে এই বাংলাদেশের জনগণ। এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কীভাবে আমরা মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরি স্থাপন করার মাধ্যমে এদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারব সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায় তার জন্য আজ মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা হলো। এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ১০০ বাড়ির চাবি তুলে দিতে পারছি। কিছু দুস্থ নারীকে আমরা চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন, এ বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের মানুষের পাশে থাকা, সুখে দুঃখে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এ মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। সমগ্র দেশে এ বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এ উপজেলার মধ্যে ১০-১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে।

তারেক রহমান বলেন, আরও অনেক মা-বোনেরা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। আমাদের লক্ষ্য ছিল ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারেন, যাতে একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারেন, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারেন, স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারেন। সেই জন্য মা’দের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এ ব্যবস্থা করছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থাও করেছি।
তারেক রহমান বলেন, নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হবে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সরাসরি যুক্ত। মিল-কারখানা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। এ কারণে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা জরুরি।সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত; তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা জনগণের শান্তি নষ্ট করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন, চট্টগ্রামে চায়নাকে বিরাট একটা জায়গা দিয়েছি। চায়না থেকে আমি ঘুরে এসেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে তারা কয়েকশ’ মিল কারখানা তৈরি করবে। সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একই সাথে বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। সেই মুদ্রা দিয়ে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব, বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব, স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তুলব। উপজেলা পর্যায়ে ৫০ বেডের হাসপাতালের ৩০ বেড করে গিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ২০ বেড যোগ করেছিলেন। বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ বেডে উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের পূর্বশর্ত শান্তি-শৃঙ্খলা। বাজারে গন্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা চাইবে, সঠিকভাবে বন্দর থেকে যেন কাঁচামাল আসতে পারে। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।

সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ,হাটহাজীর সমাবেশে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এছাড়াও সংসদ সদস্য জেলা ও কেন্দ্রীয় অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা হেলিকপ্টারটি যখন বাঁশখালির মাটিতে নামেন তখন ঐ এলাকার নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগণের আনন্দে ফেটে পড়ে। সকাল থেকে বাঁশখালির বিভিন্ন এলাকা থেকে পায়ে হেটে, মিছিল সহকারে নারী পুরুষ প্রধানমন্ত্রীকে কাজ থেকে দেখতে আগে ভাগে চলে আসে।
বাঁশখালি বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলেও এখানে নতুন রুপে সাজানো হয়।প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালির বন্যায় ক্ষতি গ্রস্ত কিছু এলাকা গুরে দেখেন এবং জনগণের সাথে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালি থেকে হেলিকপ্টার করে ফটিকছড়ি উপজেলায় নামেন।সেখানেও ছিল উসব জনতার বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দের জোয়ার।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে দেখতে জনতা এদিক সেদিক দৌড়াতে দেখা যায়।ফটিকছড়ি হেলি পেট থেকে প্রধানমন্ত্রী বাবুনগর মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে রাস্তায় দুই পাশে নারী পুরুষ প্রধানমন্ত্রী কে স্বাগত জানাতে দেখা যায়। এ সময় নেতা কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, আজকের এ দিনে জিয়া তোমায় মনে পড়ে।আজকের এ দিনে বেগম খালেদা জিয়াকে পড়ে মনে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বাবু নগর মাদ্রাসা য় গিয়ে হেফাজতের আমির আল্লামা মুফতি মাওলানা বাবু নগরীর সাথে দেখা করেন।তার কাজ থেকে স্নেহের পরশু ও দোয়া নেন।ঐ খানে তিনি সূধী সমাবেশে কথা বলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে হাটহাজারীর পথে রাউন হন।নাজিরহাট থেকে শুরু করে হাটহাজারী বাজার পর্যন্ত রাস্তায় দুই পাশে হাজার হাজার নারী পুরুষ প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে ছুটে আসতে দেখা যায়।এসময় নেতা কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, হাটহাজারীর মাটি মীর হেলালের ঘাঁটি শ্লোগান দিতে দেখা যায়। নাজিরহাট থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়।তবে সকালে সব তোরণ খুলে ফেলা হয়।তোরণে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সংসদ ও ভূমি প্রতি মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এর ছবি ছিল।
প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান হাটহাজারীতে পৌঁছে মাদ্রাসায় গমন করে আল্লামা মুফতি মাওলানা আহম্মদ শফি ও বাবু নগরীর কবর জেয়ারত করেন।সেখানে মাদ্রাসার পরিচালকদের সাথে কথা বলেন।সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী ডাক বাংলোতে গমন করে বিশ্রাম নেন কিছু সময়।পরে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে হাটহাজারী স্কুল মাঠে যান।তিনি হাটহাজারীর বিভিন্ন সমস্যা ভূমি প্রতি মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সমধান করবেন বলে ঘোসনা দেন।
পথে হাজার হাজার নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দেখা যায়। পরে তিনি বিশাল মন্চে প্রবেশ করলে আনন্দে ফেটে পড়ে নেতা কর্মীরা।এ সময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলে বিএনপির নেতা কর্মীরা।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, হাটহাজারীর মাটি মীর হেলাল এর ঘাঁটি। শুখে দূখে যাকে পাই সে আমাদের হেলাল ভাই।
প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীতে ক্ষতি গ্রস্ত দের ৩০টি ঘর প্রদান করেন।পরে তিনি বক্তব্য রাখেন।পুরো মাঠ জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীর সভা শেষ করে যখন চট্টগ্রাম শহরের দিকে রাউনা হন তখন হাটহাজারী থেকে ষোল শহর পর্যন্ত রাস্তায় দুই পাশে হাজার হাজার নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।জনতা প্রধানমন্ত্রী এক নজর দেখতে রাস্তায় নেমে পড়ে।হাটহাজারী থেকে শহরে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়। প্রধানমন্ত্রী শহরে পৌঁছে সরা সরি হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান।এখানে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং নেতা কর্মীদের কথা শুনে সংগঠন কে শক্তি শালী করতে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মুলক বক্তব্য রাখেন। নেতা কর্মীরাও দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কে পেয়ে তাদের সুখ দুঃখের কথা তুলে ধরেন।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email