অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছকে ভালোবাসতে হবে এবং এর বেড়ে উঠার দায়িত্বও নিতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও জীববৈচিত্র্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী আজ চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা -২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,বৃক্ষরোপণ বাংলাদেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। ছোটবেলা থেকেই মানুষ বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে জেনে আসছে। তবে একসঙ্গে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর যে বৃহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, একটি লক্ষ্য নির্ধারণের পর সেটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামে বিপুল সংখ্যক গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এখন বর্ষাকাল হওয়ায় রোপণ করা গাছগুলো সহজেই পানি পাচ্ছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুম শুরু হলে গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক গাছ নির্বাচন এবং সময়মতো পরিচর্যা না করলে বৃক্ষরোপণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ বাঁচানোর দায়িত্বও নিতে হবে।
এসময় মন্ত্রী থাইল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে শিশুর জন্মের সাথে সাথে একটি গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ফলে শিশুর সঙ্গে গাছটিরও একটি পারিবারিক ও আবেগের সম্পর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে এমন একটি সামাজিক ও পারিবারিক সংস্কৃতিতে পরিণত করা গেলে গাছের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ আরো বাড়বে। মন্ত্রী আরো বলেন, পরিবেশের সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকা সরাসরি সম্পৃক্ত। গাছপালা, নদী-খাল, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও জীববৈচিত্র্য—সবকিছু মিলেই প্রকৃতির ভারসাম্য তৈরি হয়। পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দ্রুত উন্নয়ন করলেও পরিবেশের উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।ফলশ্রুতিতে পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশ শিল্পায়ন ও উন্নয়নের পাশাপাশি নদী, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশকেও শিক্ষা নিতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।







