
নকশাবহির্ভূত ও অবৈধভাবে নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার অথরাইজড জোন-১ এবং আজ বুধবার অথরাইজড জোন-২-এর আওতাধীন এলাকায় পৃথক সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করে নকশার ব্যত্যয়, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ, পার্কিংয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুই দিনের অভিযানে ভবন সিলগালা, জরিমানা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) অথরাইজড জোন-২-এর আওতাধীন কোতোয়ালি ও চকবাজার থানার লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা হয়। বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নকশাবহির্ভূত নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় ও অনুমোদনবহির্ভূত স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের চকবাজারের চট্টেশ্বরী রোডের ছয়তলা (হামদর্দ বিল্ডিং) ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেসে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পার্কিং স্পেসে নির্মিত দোকানপাট আগামী নভেম্বরের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে ভবনটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পটপরিবর্তন কালে ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবনের নকশা পুড়ে গেছে। তবে পরিদর্শনের সময় তারা ভবন নির্মাণের অনুমোদনপত্র উপস্থাপন করেন।
আজকের অভিযানে সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবনসহ মোট সাতটি ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব ভবনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মোট ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া একটি ভবন সিলগালা করা হয়েছে এবং দুটি ভবনের মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন চউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২-এর চেয়ারম্যান মোহাং মনজুর হাসান, অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. হামিদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অথরাইজড জোন-১-এর আওতাধীন পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ থানা এলাকায় একই ধরনের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে নকশাবহির্ভূত ও অনিয়মপূর্ণ নির্মাণের অভিযোগে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় একটি প্লটের অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে প্লটটি বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, “এই শহরকে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। নগরীতে ভবন নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বলেন, “যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, অনিয়মের ক্ষেত্রে চউকের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ, নকশার ব্যত্যয় কিংবা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সবুজ, পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।







