,

বিকেলে পাত্রী দেখা, রাতেই নিভে গেল অপুর জীবনপ্রদীপ

বিকেলে পাত্রী দেখা, রাতেই নিভে গেল অপুর জীবনপ্রদীপ
বিকেলে পাত্রী দেখা, রাতেই নিভে গেল অপুর জীবনপ্রদীপ

বিয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল পরিবার। শুক্রবার বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে বসেছিল পাত্রী দেখার আয়োজন। পছন্দ-অপছন্দের পাশাপাশি হয়েছিল বিয়ের বিষয়ে প্রাথমিক কথাবার্তাও। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে শিগগিরই ঘরে উঠবে বউ এমন প্রত্যাশায় ছিলেন স্বজনরা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই বদলে গেল সবকিছু। বিয়ের আনন্দের বদলে পরিবারে নেমে এলো শোকের ছায়া।
পাত্রী দেখে কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব পালন শেষে রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অপু দাশ (২৯)। পথে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই তরুণ মার্কেটিং কর্মকর্তা। ফলে যে তরুণের জীবনে নতুন সংসার শুরুর স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা পরিণত হলো এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়ার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের বাঘার বাড়ির মৃত বাদল দাশের একমাত্র ছেলে। তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন অপু। কিছুক্ষণ পর তার দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তাকে মোটরসাইকেলসহ সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) এপেক্সিয়ান মৃণাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অপুকে সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কোনো একটি যানবাহন তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
মৃণাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘অপু আমাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তার এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে পুরো হাসপাতাল পরিবার শোকাহত। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, শুক্রবার বিকেলেই বাগোয়ানের গঙ্গা মন্দিরে তার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে বিয়ের কথাবার্তাও হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই আনন্দ শোকে পরিণত হয়েছে।’
অপুর মৃত্যুর খবরে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার মা শোকে ভেঙে পড়েছেন। যে বাড়িতে বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল স্বজনদের, সেই বাড়িতেই এখন চলছে কান্না ও আহাজারি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। নিহত অপুর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অজ্ঞাত কোনো যানবাহনের ধাক্কায় ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।