,

জ্বালানি তেলের দরবৃদ্ধির ফাঁদে কাঁচাবাজার, সবজিতে চরম অস্বস্তি

জ্বালানি তেলের দরবৃদ্ধির ফাঁদে কাঁচাবাজার, সবজিতে চরম অস্বস্তি

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আঁচ গিয়ে পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। পরিহবন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়শ, করলা, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছে। সরবরাহ লাইনে ভাড়া বৃদ্ধির কথা ব্যবসায়ীরা স্বীকার করলেও ক্রেতাদের অভিযোগ—প্রকৃত খরচের তুলনায় অসাধু সিন্ডিকেট কয়েক গুণ বেশি দামে সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর দিনই তা কার্যকর হয়। এর প্রভাবে শুরুতেই প্যাকেটজাত তরল দুধ ও আটা-ময়দার মতো পণ্যের দর বৃদ্ধি পায়, যার চূড়ান্ত ধাক্কা এখন এসে পড়েছে নিত্যদিনের সবজি বাজারে।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহখানেক আগে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় মিলতে থাকা লম্বা বেগুন এখন বিকোচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া পটোল ও ঢ্যাঁড়শের জন্য গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। করলার দাম বেড়ে ঠেকেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য কাঁচাসবজির দামেও কেজিতে ১০-২০ টাকার উত্থান ঘটেছে।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নঈম আহমেদ ও রায়হান আলীর মতে, পাইকারি পর্যায়েই সবজির ক্রয়মূল্য চড়া। মাদারীপুর থেকে যাত্রাবাড়ীগামী মাঝারি আকারের পণ্যবাহী ট্রাক ভাড়া আগে যেখানে ছিল ১৮ হাজার টাকা, তা বেড়ে এখন ২১ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ফলে পরিবহনজনিত বাড়তি ব্যয়ের দায় বাধ্য হয়েই খুচরা মূল্যে যুক্ত করতে হচ্ছে।

তবে সাধারণ ক্রেতারা এই অতিরিক্ত দরবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। শ্যামবাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী শামীম জানান, পরিবহন খরচের কারণে কেজিপ্রতি সামান্য কয়েক পয়সা বা এক-দুই টাকা ব্যবধান হওয়া স্বাভাবিক হলেও এক লাফে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া স্পষ্টতই বাজার তদারকির অভাবকে নির্দেশ করে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন জানান, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানির দামবৃদ্ধিকে হাতিয়ার বানিয়ে সুযোগসন্ধানী আচরণ করছেন। প্রকৃত খরচ সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১০ গুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানির অজুহাতে কোন পণ্যে ঠিক কতটুকু প্রভাব পড়ার কথা এবং বাজারে বাস্তবে কত চাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়টি সরকারের কড়া নজরদারিতে আনা প্রয়োজন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অবশ্য দাবি করেছেন, জ্বালানি তেলের কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি হতে দেওয়া হবে না। সরবরাহ শৃঙ্খলে কোথাও কোনো ব্যত্যয় বা অসঙ্গতি দেখা দিলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ডিম, মুরগি ও চালের বাজার আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও তেলের উর্ধগতির অজুহাতে সবজি বাজারের এই লাগামহীন উর্ধমুখী প্রবণতায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।