,

ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ, চবিতে চীনা কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট উদ্বোধন

ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ, চবিতে চীনা কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট উদ্বোধন

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সুসম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন আজ সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় চবি কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ৫ম তলায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে কার্যক্রমের শুভসূচনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টা থেকে চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।

ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ, চবিতে চীনা কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট উদ্বোধন

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। অনুষ্ঠানে ​সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ঝাওছি (Mr. Ruan Chaoqi)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইকবাল শাহীন খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস সেন্টারের যাত্রা শুরু হওয়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও আনন্দের দিন। এই উদ্যোগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ, ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। চীনা ভাষাকে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তাদের কর্মসংস্থান ও কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। ফলে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে আরও প্রস্তুত করে তুলতে পারে।

মাননীয় উপাচার্য বলেন, একটি ভাষা শেখা মানে শুধু কিছু নতুন শব্দ বা বাক্য শেখা নয়; এর মাধ্যমে একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, চিন্তাধারা ও মানুষের জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। সে অর্থে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস সেন্টার কেবল একটি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতির মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি এখানে শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আমরা আশা করি। এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত চীনা ও বাংলাদেশি অংশীদারদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান মাননীয় উপাচার্য।

সম্মানিত অতিথি চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক জনাব রুয়ান চাওছি বক্তব্যে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। একই সঙ্গে এই অংশীদারত্ব আমাদের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও অর্পণ করেছে। এর মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতা শিক্ষা, গবেষণা, ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময়কে আরও সমৃদ্ধ করবে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট একটি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রের চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি চীনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে চীন ও বাংলাদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও গভীর হবে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটি কার্যকর সেতু হিসেবে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা কামনা করেন এবং ধন্যবাদ জানান।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মপদ্ধতি এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর কর্মসম্পাদন নিশ্চিত করার সংস্কৃতি আমাদের জন্যও শিক্ষণীয়। একটি জাতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার এই সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কনফুসিয়াস সেন্টারের মাধ্যমে চীনের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্কৃতির যেসব ইতিবাচক দিক রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানার সুযোগ পাবে এবং এর ভালো দিকগুলো নিজেদের উন্নয়ন ও দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে পারবে বলে আমি আশা করি।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বহু শতাব্দী আগে চীন ও বাংলার মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হবে না; বরং দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। আমাদের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা পরস্পরের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, জ্ঞান ও জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

সভাপতির বক্তব্যে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক হবে। তিনি এই উদ্যােগে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং মাননীয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়সহ উদ্বোধন অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে যারা সহায়তা করেছেন সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক জিয়া ওয়াংওয়েই (Jia Wangwei)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চবি ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক ও অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের খন্ডকালীন চাইনিজ ভাষা শিক্ষক আয়েশা পারলীন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), অনুষদসমূহের ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগ/ইনস্টিটিউটের সভাপতি/পরিচালকবৃন্দ, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, চাকসুর জিএস, এজিএসসহ চাকসু ও হল সংসদের অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি, চীনা প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, অফিস প্রধানগণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।