
দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছে বিএনপি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরের ২ নম্বর গেইটস্থ বিপ্লব উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে নেতারা বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এখন মহানগর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিকেল ৩টায় বিপ্লব উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা গণমিছিল নিয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি ওয়াসার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশের বাইরে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানি বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এমপি এরশাদ উল্লাহ বলেন, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যাপক হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবে ঘরে ঘুমাতেও পারেননি; অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেছেন, ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় তারা রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র বা নৈরাজ্য মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সাংগঠনিক ঐক্য। তাই সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং দলীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের গভীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই। জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে, তাদের সচেতন করতে হবে এবং যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো মহল সন্ত্রাস বা নৈরাজ্যের পথ বেছে নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। উসকানি, গুজব ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বা বোমা হামলার মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত অপশক্তির যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বে যারা বিশ্বাস করেনি, তাদের একটি অংশ বর্তমানে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এসব শক্তির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে তারেক রহমানের সরকারের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা কিংবা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিরোধের নামে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে গণমিছিল বের করা হয়। বিপ্লব উদ্যান থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াসার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।
উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য ইকবাল চৌধুরী, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, ইস্কান্দার মির্জা, খোরশেদ আলম, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল হক হুমায়ুন, জাফর আহমেদ, এ কে খান, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, আবু মুসা, আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নুরুন্নাবাহার, মোশারফ হোসেন দিপ্তীসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, শ্রমিক দল নেতা নুরুন্নাবাহার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলু, সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, তাঁতীদলের সভাপতি সেলিম হাফেজ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুরাদ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আজিজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।







