,

তাহসিফ হত্যা মামলায় বান্ধবী দিশার ৪ দিনের রিমান্ড

তাহসিফ হত্যা মামলায় বান্ধবী দিশার ৪ দিনের রিমান্ড

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দিশাকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে তাঁরা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে’ও গিয়েছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গেও দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। এ ছাড়া তাহসিফের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে যাওয়া এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির তথ্য পাওয়া গেছে। তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলার প্রমাণ মিলেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ঘটনাস্থল নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত ৩০ অক্টোবর সকালে তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, তাহসিফকে তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশ দীপকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। ওই দিন দিবাগত রাতে মাকে পাঠানো ভয়েস মেসেজে তিনি বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। তবে আর ফেরেননি। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।