কলা নাকি খেজুর, কোনটি বেশি উপকারী?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কলা নাকি খেজুর, কোনটি বেশি উপকারী?

কলা ও খেজুর- দু’টি সুস্বাদু ও শক্তির উৎস ফল। তবে, এদের পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে কি আপনার দ্বিধা আছে? কোনটি আপনার জন্য বেশি উপকারী, তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থান এবং কী উদ্দেশ্যে আপনি এগুলি খাচ্ছেন তার উপর। সম্প্রতি, ভারতের পুষ্টিবিদ লিমা মহাজন এই দুটি ফলের পুষ্টিগত তুলনামূলক আলোচনা করেছেন।

শক্তির সরবরাহ
কলা: কলা প্রাকৃতিক চিনি- সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজ- থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এটি শরীরচর্চার আগে বা পরে খেতে উপযুক্ত, কারণ এতে ফাইবারও রয়েছে যা শক্তির স্থায়ী যোগান দেয়।
খেজুর: খেজুরে শক্তির ঘনত্ব বেশি, এবং এটি খুব দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এক বা দুটি খেজুর খেলেই শরীরে শক্তি ফিরে আসে, যা দীর্ঘ ভ্রমণ বা পরিশ্রমের পর ক্লান্তি দূর করতে উপকারী।

স্বাস্থ্য রক্ষা
কলা: কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন সি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরকে রক্ষা করে। এছাড়া, কলায় থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক।
খেজুর: খেজুরে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ফেনোলিক অ্যাসিড মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কোষের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, খেজুরে কলার থেকে বেশি আয়রন এবং ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য ও রক্তস্বল্পতা রোধে কার্যকরী।
আরও পড়ুন
১ জানুয়ারি: আজকের নামাজের সময়সূচি

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ
কলা: কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি- ৪৮ থেকে ৫৪। তবে, কলা যত বেশি পাকে, তত তার শর্করার পরিমাণ বাড়ে এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও বাড়তে থাকে। তাই পাকা কলা খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বাড়তে পারে।
খেজুর: খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কলার থেকে কম- ৪২ থেকে ৫০। তবে, এতে শর্করার ঘনত্ব বেশি থাকে এবং আকার ছোট হওয়ায় এটি খুব দ্রুত খেয়ে ফেলা যায়, যার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে।

এক ঝলকে তুলনা
কলা
পুষ্টিগুণ: পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি
শক্তি: দীর্ঘমেয়াদী শক্তির যোগান দেয়
ক্যালোরি: প্রতি ১০০ গ্রামে ৮৯ ক্যালোরি
শর্করা: কাঁচা কলা খেলে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

খেজুর
পুষ্টিগুণ: আয়রন, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
শক্তি: দ্রুত শক্তির যোগান দেয়
ক্যালোরি: প্রতি ১০০ গ্রামে ২৮২ ক্যালোরি
শর্করা: শর্করা নিয়ন্ত্রণে কম সহায়ক, মেপে খাওয়া ভাল

কোনটি বেছে নেবেন?
ওজন কমানো বা হার্টের স্বাস্থ্য
যদি আপনার লক্ষ্য ওজন কমানো বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো হয়, তবে কলা বেছে নিন। এতে ক্যালোরি কম এবং পটাশিয়াম বেশি থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

রক্তস্বল্পতা বা হাড়ের স্বাস্থ্য
যদি রক্তস্বল্পতা বা হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে চান, তবে খেজুর বেশি কার্যকরী। এতে আয়রন এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে যা হাড়ের গঠন এবং রক্তস্বল্পতা রোধে সাহায্য করে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য কলা এবং খেজুর দু’টি ফলই মেপে খেতে হবে। কাঁচা কলা খেলে শরীরে রেজিস্টান্ট স্টার্চ বেশি প্রবাহিত হবে, যা রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে দেয় না। তবে, খেজুরের শর্করার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীরা দিনে এক বা দুটি খেজুরের বেশি খাওয়া এড়ানো উচিত।

যদি ডায়াবেটিস বা ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা না থাকে
তবে, আপনি কলা এবং খেজুর দু’টি ফলই স্বাভাবিকভাবে খেতে পারেন, তবে পরিমাণে সচেতন থাকুন।

কলা ও খেজুর উভয়ই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং শক্তির অন্যতম বড় উৎস। আপনার শরীরের পরিস্থিতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী, যেকোনো একটিকে বেছে নিতে পারেন। তবে, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য, যদি ডায়াবেটিস বা অতিরিক্ত ওজন সমস্যা না থাকে তবে দুটি ফলই মাপপূর্বক খাওয়া উচিত।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email