এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নতুন বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে নতুন পাঠ্যবই। যদিও মাধ্যমিক স্তরের সব বই এখনো বিতরণ হয়নি, তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অনলাইনে প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট বইগুলোর ডিজিটাল সংস্করণ। এসব বই পর্যালোচনায় উঠে এসেছে পাঠ্যবস্তুর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
এনসিটিবির প্রকাশিত বই অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ে সংযোজন করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা। একই সঙ্গে অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, অষ্টম শ্রেণির পাশাপাশি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি প্রথমপত্র বই থেকেও ৭ই মার্চের ভাষণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ব্যবহৃত ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিও একাধিক জায়গা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইগুলোতে দেখা যায়, পূর্ববর্তী সংস্করণে যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে বঙ্গবন্ধু শব্দটি ছিল, নতুন সংস্করণে তা আর নেই।
উদাহরণ হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বর্ণনায় আগের বছর যেখানে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ লেখা ছিল, সেখানে এবার শুধুই ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণার অংশে মেজর জিয়াউর রহমানের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে ঘোষণার বিবরণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ অধ্যায়ে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ শিরোনামের পাঠ, যেখানে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৬ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়েও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বইটির প্রথম অধ্যায়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণআন্দোলন’। এ অধ্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম একাধিকবার উল্লেখ থাকলেও ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির বইয়ে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ অধ্যায়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’। এতে ৭ মার্চের ভাষণের বিস্তারিত বিবরণ নেই, যদিও একটি শ্রেণিকাজে শিক্ষার্থীদের ৭ই মার্চের ভাষণ শুনে মতামত লেখার নির্দেশনা রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, পাঠ্যবই পরিমার্জনের সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী যেখানে কেবল উপাধি হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু’ ব্যবহৃত ছিল, সেসব স্থান থেকে শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সংশোধনের পাশাপাশি এ পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।







