এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী করা। ৩০০ সংসদীয় আসনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়, পেছনের দরজা দিয়ে নয়। বিএনপি বরাবরই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে এবং ভবিষ্যতেও শুধুমাত্র জনগণের রায়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।
তিনি বুধবার (৭ জানুয়ারী) বিকালে কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে চট্টগ্রাম ৯ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ানের সমর্থনে ৯ আসনের অন্তর্ভুক্ত ১৪টি ওয়ার্ডের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
৯ আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।
ডা. শাহাদাত হোসেন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসবেন। আপনার ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেবেন। ধানের শীষের প্রতীক বেছে নেবেন দেশের স্বার্থে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি একমাত্র দল যার দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশ চালাতে কেবল রাজনৈতিক দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা নয়, বরং সাহস, জ্ঞান, দক্ষতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ক্ষমতা প্রয়োজন, যা বিএনপির আছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ধাপে ধাপে সেন্টার কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এই কমিটিতে যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া সমাজের নিরপেক্ষ ও সম্মানিত ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মানুষের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যে বিপুল জনসমাগম হয়েছে, তা প্রমাণ করে আল্লাহ যাকে সম্মান দেন, তাকে কেউ অপমান করতে পারে না।
দলীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আমাদের অস্তিত্বের পরীক্ষা। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা আবু সুফিয়ান ভাইকে আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য করব এবং তারেক রহমানকে রাষ্ট্রনায়ক বানাব।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, আওয়ামিলীগ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, কিন্তু পারেনি। বিএনপি জনগণের দল। চট্টগ্রাম ৯ আসনে প্রতিধন্ধী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আমরা চায় তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটে ফিরে আসুক। কারণ আমরা খালি মাঠে গোল দিতে চাই না। মাঠে খেলে বিজয়ী হতে চাই। মাঠে কার শক্তি কতটুকু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা হয়ে যাবে। তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির জন্য কাজ করার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ব্যক্তির চাইতে দল বড়, দলের চাইতে দেশ বড়। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হবে। আমরা চট্টগ্রাম ৯ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই। এখন থেকেই ওয়ার্ড, ইউনিট পর্যায়ে কাজ শুরু করে দিতে হবে। দলকে তৃণমূল পর্যন্ত সুসংগঠিত করতে হবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে আবারও বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করে আবু সুফিয়ান সহ চট্টগ্রামের সবগুলো আসনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করি।
এতে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মোবিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এড. মফিজুল হক ভূইয়া, নুরুল আলম রাজু, খোরশেদুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. মহসিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মান্নান, শাহেদ বক্স, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৈয়ব, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা প্রমুখ।







