এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রের প্রচারতন্ত্র ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এখন এক নতুন গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মূলত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ তথা গণমাধ্যম এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ পর্যন্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেশ কিছু বিশেষায়িত দপ্তর ও সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কিছু সংস্থা প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। তথ্য অধিদপ্তর বা পিআইডি হলো সরকারের তথ্য প্রচারের মূল কেন্দ্র। প্রধান তথ্য অফিসারের নেতৃত্বে এই দপ্তরটি সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ হ্যান্ডআউট ও ছবির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমে পৌঁছে দেয়।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ থেকে শুরু করে উপদেষ্টাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সংবাদ পরিবেশন এই দপ্তরের প্রধান কাজ।
বাংলাদেশ বেতার দেশের প্রাচীনতম ও রাষ্ট্রীয় রেডিও সম্প্রচার কেন্দ্র। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে, সেখানে বেতারই তথ্যের একমাত্র উৎস। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দুর্যোগকালীন সতর্কবার্তা প্রচারে বেতারের ভূমিকা অতুলনীয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি হলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্প্রচার কেন্দ্র। এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক প্রচারণার প্রধান মাধ্যম। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভিজুয়াল ডকুমেন্টেশন এবং জাতীয় সংস্কৃতির প্রসারে বিটিভি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বা ডিএফপি চলচ্চিত্র ও সরকারি প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। সরকারের বিভিন্ন সচিত্র প্রকাশনা, তথ্যচিত্র নির্মাণ এবং সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা বা সার্কুলেশন যাচাই ও নির্ধারণের দায়িত্ব এই দপ্তরের ওপর ন্যস্ত। গ্রামীণ পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা নিশ্চিত করাই গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কাজ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য অফিসের মাধ্যমে এটি উঠান বৈঠক, সিনেমা শো এবং প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে সরকারের বার্তা সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ বা পিআইবি কাজ করে। সংবাদকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, গণমাধ্যম বিষয়ক গবেষণা এবং জার্নালিজম নিয়ে কাজ করাই এর মূল লক্ষ্য। এটি একটি আধুনিক ও দক্ষ সাংবাদিক সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সংবাদপত্রের মান নিশ্চিতকরণ এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কাজ করে। কোনো সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে বিচারিক প্রক্রিয়া ও কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে এটি গণমাধ্যমের শুদ্ধতা বজায় রাখে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের আঁতুড়ঘর হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন বা বিএফডিসি। চলচ্চিত্র নির্মাণ, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং চলচ্চিত্রের বিকাশে এই সংস্থাটি আধুনিক স্টুডিও ও ল্যাব সুবিধা প্রদান করে। মিডিয়া বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা ও পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট কাজ করে। এখান থেকে দক্ষ সিনেমাটোগ্রাফার, এডিটর এবং ডিরেক্টর তৈরি হচ্ছে যারা দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিকে সমৃদ্ধ করছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বা বাসস হলো রাষ্ট্রের একমাত্র জাতীয় সংবাদ সংস্থা। দেশ বিদেশের সংবাদ সংগ্রহ করে তা গণমাধ্যমগুলোতে সরবরাহ করা এদের প্রধান কাজ। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একটি আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন দুইজন দক্ষ নারী ব্যক্তিত্ব। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী হিসেবে সারাজীবন স্বচ্ছতার পক্ষে লড়েছেন। মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমের ওপর থেকে অহেতুক নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে কাজ করছেন। তার নির্দেশনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা অনুরূপ কালাকানুনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য প্রকাশ করতে পারেন।
তিনি মনে করেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহই পারে একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে।
প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সচিব বেগম মাহবুবা ফারজানা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে গতিশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরগুলোর কাজের মান উন্নয়ন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে কাজ করছেন। তার তত্ত্বাবধানে বিটিভি ও বেতারের আধুনিকায়ন এবং স্বচ্ছতার সাথে বাজেট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এখন আর কেবল সরকারের স্তুতি গাওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে এটি জনগণের সেবক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। কোনো দপ্তরে তথ্য চাওয়া হলে তা যেন দ্রুত সরবরাহ করা হয়, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞাপনের সুষম বণ্টন এবং সংবাদপত্রের তালিকায় স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, গণমাধ্যমকে সরকার নিয়ন্ত্রিত নয়, বরং সরকার পরিচালিত সংস্থাকে জনগণের সংস্থায় রূপান্তর করতে হবে। সাংবাদিক সুরক্ষা এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ন্যায্য বেতন ভাতা নিশ্চিতে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নেও মন্ত্রণালয় বিশেষ নজর দিচ্ছে। এছাড়া অনলাইন পোর্টালগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কেবল একটি মন্ত্রণালয় নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দর্পণ। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সচিব বেগম মাহবুবা ফারজানার দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এই মন্ত্রণালয় এখন এক নতুন গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বিটিভি থেকে শুরু করে বাসস পর্যন্ত প্রতিটি সংস্থা আজ স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করতে বদ্ধপরিকর। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং জনবান্ধব গণমাধ্যম পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়টি জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।







