দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ জানুয়ারি সকালে তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে পৌঁছাবেন।নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে জনসভায় বক্তব্য রাখাবেন তিনি। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।নির্বাচনকে সামনে রেখে উজ্জীবিত হবে নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ওয়ার্ড ইউনিয়ন শুরু হয়েছে প্রচারণা। দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়াবে।সবশেষ ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান।এ সমাবেশে ‘১০ লক্ষাধিক’ লোকের সমাগম ঘটাতে চায় দলটির নেতাকর্মীরা।
এই সফরকে কেন্দ্র করে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন করেন মেয়র। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বরাবরই রাজনৈতিক ইতিহাস গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১২ সালে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছিল। তার মতে, আগামী ২৫ জানুয়ারিও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামবাসী অধীর আগ্রহে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। সেদিন চট্টগ্রামকে ঘিরে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তিনি নিজেই তুলে ধরবেন, যা শোনার জন্য নগরবাসী অপেক্ষায় রয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে ওই দিন সন্ধ্যায় নগরীর ঐতিহাসিক জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
নগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেন,মুলত তিনি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন । আশা করছি চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণ পলোগ্রাউন্ড মাঠে উপস্থিত থেকে উনার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ এবং নির্বাচন নিয়ে উনি কি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন সেটা শুনার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি।

এরপর, সড়কপথে চট্টগ্রামে এসে সন্ধ্যায় নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের এই সফর নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, পথসভা বা নির্বাচনি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী বলেন, ‘বহুদিন পর দলীয় নেতৃত্বকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাওয়ায় নেতাকর্মীরা আবেগাপ্লুত।মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, ‘নেতার আগমন আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বেশ উচ্ছ্বসিত। এতদিন আমরা আমাদের নেতাকে এতদিন সামনাসামনি দেখিনি, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সে সুযোগ আসছে।

জানা গেছে, তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মাহসচিব। গত ৯ জানুয়ারি তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। এছাড়া ২০০৫ সালে তার সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। ওই হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে প্রথম বড় কোনো সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এদিকে দলের প্রধান তারেক রহমানের আগমন ও পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশকে ঘিরে উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীর মাঝে। চাঙ্গা ভাব এসেছে নেতাকর্মীদের মাঝে। তাদের দাবি, দলীয় কর্মী ছাড়াও সাধারণ লোকজন সমাবেশে অংশ নেবে। সমাবেশ সফল করতে গতকাল নগরে প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি। গঠন করা হয়েছে উপ–কমিটিও। এছাড়া কয়েকদিনের মধ্যে নগরজুড়ে শুরু হবে সমাবেশের প্রচারণাও।

তরেক রহমানের চট্টগ্রামে আসার খবরে দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা উজ্জিবীত।
কেউ কেউ মনে করছেন, এই সফর সাংগঠনিকভাবে নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে এবং দীর্ঘদিনের হতাশা কাটাতে সহায়ক হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email