
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে উন্মুখ হয়ে আছে চট্টগ্রামবাসী। সফরকে ঘিরে দলের নেতাকর্মী সমর্থকেরা এখন দারুণ উজ্জীবিত। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।এ ছাড়াও বিএনপি’র চেয়ারম্যান এর সফর রাজনৈতিক গতি বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ ভোটাররাও উৎসাহ পাবেন ।জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকেই মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি স্বাধীনতার লড়াইয়ে শামিল হন। এই চট্টগ্রামেই শাহাদাতবরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাই জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রামকে আপন করে নিয়েছিলেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন আপোষহীন সংগ্রামী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া।আজকের মহাসমাবেশ স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সমাবেশ করতে চট্রগ্রাম বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় ভাষণ দেবেন তিনি। পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণাও চালাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।তিনি পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশ থেকে চট্টগ্রামবাসীকে নতুন বার্তা দেবেন। তারেক রহমান সেখানে তার পরিকল্পনার কথা শোনাবেন। ওই সমাবেশ হবে সর্বস্তুরের মানুষের মহাসমাবেশ।
সমাবেশ উপলক্ষে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রস্তুত করা হচ্ছে ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ।যেখানে অন্তত ৩০০ জন বসতে পারবেন। সমাবেশ চলাকালে সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা থাকবেন। এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরের অংশে সমাবেশে আসা মানুষ অবস্থান নেবেন।এদিকে সমাবেশস্থলের আশেপাশে ২০০ মাইক ও ১০টি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হবে, যাতে মাঠের বাইরে থাকা লোকজন তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে পারেন।
তারেক রহমানের এ মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রামের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতা-কর্মীদের আশা রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্মরণকালের মহা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। সমাবেশে ১০ থেকে ১৫ লাখ লোকের সমাগম হবে বলেও মনে করছেন তারা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর সফল করতে মঞ্চ স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করছেন স্থানীয় নেতারা।তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতা–কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন এ মহাসমাবেশে।
বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ওই হিসেবে ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। এছাড়া দলের প্রধান হিসেবে আজকেই প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। ২০০৫ সালে তার সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফর করেন তারেক রহমান। ওইসময় তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। ওই হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর চট্টগ্রামে আসবেন এবং একইসঙ্গে প্রথম বড় কোনো সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা এবং প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিদিনই নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, সমাবেশ ও মাইকিং করা হচ্ছে। পোস্টার, ব্যানার লাগানো হয়েছে। পলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের এলাকা সাজানো হচ্ছে রঙিন সাজে। সমাবেশে যোগ দিতে এই অঞ্চলের চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্ণিল টি-শার্ট আর ক্যাপ পরে জনসভায় যোগ দেবেন প্রার্থীদের সমর্থকেরা। এছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বাসে, ট্রাকে মিছিলে মিছিলে জনসভায় যোগ দেয়ার আয়োজনও চলছে।
চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের সাথে বিএনপির সর্ম্পক অত্যন্ত নিবিড়। জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই অঞ্চলের গণমানুষের কাছে বিএনপি সব চেয়ে বেশি জনপ্রিয় দল। সাগর আর পাহাড় ঘেরা এই অঞ্চলের মানুষ জিয়া পরিবার এবং সেই সাথে বিএনপিকে আপন করে নিয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, তার এই সফর হবে ঐতিহাসিক।
নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, মঞ্চসহ পুরো এলাকায় পুলিশের ৩ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। সমাবেশ উপলক্ষে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় সিএমপি। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠ চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জনসমাবেশ উপলক্ষে ২৪–২৫ চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার নিমিত্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এই ২৯ ধারা মোতাবেক কোনো ব্যক্তির অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট–পাথর প্রভৃতি বহন ও ব্যবহার, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা–বিরোধী কোনো কিছু প্রদর্শন বা প্ল্যাকার্ড বহন ও ব্যবহার এবং জনসমাবেশ এলাকায় ‘ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা–২০২০’ এর ধারা ০৯ ও ১৩ মোতাবেক অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







