
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটি হলো— দুর্নীতি। যেকোনো মূল্যে আগামী বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে— এই দুটি হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট এই দেশের মানুষের কাছে।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন। বিগত ১৬ বছর মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, জনগণের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছিল।
আসসালামু আলাইকুম। অনরা ক্যান আছেন? (আপনারা কেমন আছেন)। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় চট্টগ্রামের ভাষায় নেতা-কর্মীদের স্বাগত জানান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘ভালা আছি (ভালো আছি)’ বলে উত্তর দেন।
ভোর থেকে চট্টগ্রাম এর বিভিন্ন উপজেলা,ইউনিয়ন, ওয়ার্ড থেকে ব্যানার, পেষ্টুন নিয়ে দলে দলে নেতা কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে আসতে থাকে।নেতা কর্মীদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের চাপ।এ দিকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় পূর্নতা পেয়েছিল।পালানো শেখ হাসিন ক্ষমতায় থেকে জনসভা করে টাকা দিয়ে মানুষ এনেও পুরাতে পারেনি মাঠ।কিন্তু আবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর জনসভা মাঠ পূর্নতা পেল।শুধু মাঠ নয় কদমতলী,সিআরবি,টাইগারপাশ এলাকা ছিল লোকে লোকারন্য। এত বিশাল মাঠে ছিল তপ্তরোদ।কিন্তু তার পরেও নেতা কর্মীদের পূর্নতা ছিল চোখে পরার মত।এর আগে কঠোর নিরাপত্তায় বেলা সোয়া ১২টা ২৫ তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। এসময় করতালিতে সমাবেশস্থল মুখরিত হয়ে উঠে। বিএনপির চেয়ারম্যান হাত নেড়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান।তিনি ১২ টা ৫৩ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।১ টা ২২ মিনিটে শেষ করেন।
তারেক রহমান বলেন, এই সেই চট্টগ্রাম, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখান থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমির সাথে আমি এবং আমার পরিবারের একটি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীকে পিছিয়ে রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মেয়েদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে গ্রামগঞ্জসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে যে, দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, কিন্তু সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। আমরা দেখেছি বিগত ১৫ বছর এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি।
এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়- সমগ্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সারা দেশে ব্যবসা বাণিজ্য অনেক চাঙ্গা হবে যাতে করে মানুষের কর্মসংস্থান হবে; মানুষ চাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্য করে খেতে পারবে। কী সেটি? বাণিজ্যিক রাজধানী। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে খালেদা জিয়ার সেই উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব, আগামী বিএনপি সরকার সেটিকে বাস্তবায়ন করবে—যাতে করে এই এলাকার মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাসহ সকল কিছু এখানে বসেই কাজ সেরে নিতে পারে।
তিনি বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে ঘোষণা দেন । তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে। যেই দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ বাণিজ্যিক রাজধানী করার গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার অতীতেও প্রমাণ করেছে ’৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যেই সরকার ছিল, তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে ধীরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, আজকে আমি আপনাদেরসহ এখানে হাজার-লক্ষ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই ,আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করেন তাদেরকে কোনো ছাড় আমরা দেব না ইনশাআল্লাহ।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যত পরিকল্পনার কথা বলেছি, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে দুই বিষয়ের ওপর নজর দিতে হবে। এই দুটো বিষয় বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য অধিকার থেকে বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে। অতীতে বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনা করেছে, বিএনপি প্রমাণ করে দেখিয়েছে, এই দুটো বিষয় একমাত্র বিএনপিই সফলভাবে করতে পারে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনকে যদি সত্যিকারভাবে মিনিংফুল পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে; আমরা তাদেরকেও ছাড় দেইনি। আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘেœ জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘেœ জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
চট্টগ্রামসহ সারা দেশের জলাবদ্ধতার সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সমগ্র বাংলাদেশের খালকাটা কর্মসূচি চালু করতে চাই। ইনশাআল্লাহ আমরা দুহাতে কোদাল দিয়ে খাল খনন শুরু করব, যাতে করে জলাবদ্ধতার বড় সমস্যা দূর করা যায়।এই চট্টগ্রামে ইপিজেড আছে, যেখানে মানুষ চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানা আছে, এই ইপিজেডগুলো বিএনপির আমলেই হয়েছিল। আগামীতে যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে এরকম আরও অনেক ইপিজেড গড়ে তুলবো।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান সঞ্চালনা অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উদয় কুমার বড়ুয়া, সাঈদ আল নোমান, মোহাম্মদ নাজিমুর রহমান, সরোয়ার জামাল নিজাম, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, আসলাম চৌধুরী, গোলাম আকবর খন্দকার, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, এস এম ফজলুল হক, হারুনুর রশিদ, এম নাজিম উদ্দীন, আবুল হাশেম বক্কর, আব্দুল ওয়াদুদ ভুইঁয়া, লুৎফুর রহমান কাজল, ম্যামাসিং, জেরি প্রু চৌধুরী, বেগম নুরে আরা সাফা, ইদ্রিস মিয়া, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, মোস্তফা কামাল, দীপেন দেওয়ান তালুকদার, মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ এনামুল হক, নাজমুল মোস্তফা আমিন, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, মোহাম্মদ সাহেদ ।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছর আপনারা ভোট দিতে পারেননি। আগে যেমন নিশিরাতে ভোট হয়েছে, এখন আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আপনারা দেখেছেন—একটি দল কীভাবে প্রবাসীদের ব্যালট পেপার দখলে নিয়েছিল। জনগণের সজাগ উপস্থিতিই এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে। তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা দরকার, জনগণের সরকারই কেবল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। অনেকেই বলে, ফজরের নামাজ পড়ে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে। আমি বলব এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামায়াতে ফজরের নামাজ পড়ে তারপর সাতটায় গিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে।







