
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের সংযোগস্থলে সাপমারা খালের ওপর স্থাপিত একটি জীর্ণ বাঁশের সাঁকোই এখন প্রায় ২০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিদিন নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই নড়বড়ে সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশ ও দড়ির জোড়াতালি দিয়ে তৈরি সাঁকোটির একাধিক অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও বাঁশ ফেটে গেছে, কোথাও দড়ি ঢিলে হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খালপাড়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে। তারা বলেন, উন্নয়নের কথা অনেক শোনা গেলেও বাস্তবে তাদের জীবনে তার কোনো ছাপ নেই। শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে প্রতিদিন এই সাঁকো পার হওয়াটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।
এই সাঁকোর কারণে শিক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। ঠান্ডা মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ঝুঁকির কারণে অনেকেই নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। বাধ্য হয়ে দূরের স্কুলে যেতে হয় ঘুরপথে। সাঁকোর ওপর উঠলেই বাঁশের নড়বড়ে শব্দে বুক কেঁপে ওঠে বলে জানায় তারা।
সাঁকোর এক পাশে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অন্য পাশে সরেঙ্গা বাজার অবস্থিত। বাজার সদাই, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মস্থলে যাতায়াতসহ খুরুস্কুল ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষকে প্রতিদিন এই সাঁকোর ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহেদুল আলম চৌধুরী জানান, সাপমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব আন্ডার-১০০ ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।







