
চট্টগ্রাম-১১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ৩০ নং ওয়ার্ড পূর্ব মাদারবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি উত্তর নালাপাড়া, দক্ষিণ নালাপাড়া, মালুম মসজিদ লেইন, দারোগা হাট এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যুবসমাজ, নারী, প্রবীণ ও সাধারণ ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে গণসংযোগে একাত্মতা প্রকাশ করেন। গণসংযোগ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি নেতা, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বিদেশি নির্ভরতার রাজনীতি জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে বলে আমীর খসরু বলেন,এদেশের জনগণের ওপর তাদের আস্থা নেই। তাদেরও জনগণের ওপর আস্থা নেই। তারা অন্য দেশের ওপর আস্থা রেখে রাজনীতি করতে চায়। সেটি কি কখনো কাজ করেছে?
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিকামী। স্বাধীন একটি জাতি হিসেবে আমরা সবসময় গর্ববোধ করি। সেখানে যদি কেউ বিদেশিদের ওপর আস্থা রেখে রাজনীতি করতে চায়, তাহলে তাদের জায়গা থাকবে বলে মনে হয় আপনাদের? জনগণ তাদের দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। অতীতে যারা বিদেশিদের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করেছে, তাদের অবস্থান একটু দেখুন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের সমাবেশর আগে এত বড় সমাবেশ চট্টগ্রামের ইতিহাসে খুব বেশি হয়নি। এর আগে হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পলেগ্রাউন্ড ময়দানের জনসমাবেশে। স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রামের নেতাকর্মী ও এ অঞ্চলের মানুষ উজ্জীবিত হবে। এ ছাড়াও সারাদেশে একটা বার্তা যাচ্ছে যে, চট্টগ্রামের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে, তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছে।
তিনি বলেন, দেশ নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা এবং তারেক রহমান যে বলেছেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমাদের পরিষ্কার কর্মসূচি রয়েছে, জনগণ সেটি ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। তারাও চাচ্ছে এরকম একটা পরিকল্পনা যা বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারে। তার প্ল্যান জনগণ গ্রহণ করেছে তার প্রমাণ এই জনসভার উপস্থিতি।
আমীর খসরু বলেন, এর চেয়ে বড় কথা, এত শীতের সকালে, তাও সরকারি কর্মদিবসে এত মানুষের উপস্থিতি ইতিহাস গড়ার মতো জনসভা। এটা সম্ভব একমাত্র জনগণের আস্থা অর্জন করা গেছে বলে। আমরা দেখেছি দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে বিএনপির ওপর জনগণ আস্থা রেখেছে।
তিনি বলেন, যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জনগণ তার ওপর আস্থা রেখেছে এবং সর্বশেষ তারেক রহমানের ওপর জনগণ আস্থা রেখেছে। দেশের স্বপ্ন পূরণের জন্য, মুক্তির জন্য, স্বৈরশাসন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জনগণ আস্থা রেখেছে। অন্য কেউ চাইলেই এটা করতে পারবে না। করতে হলে আগে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের সমর্থন থাকতে হবে। জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের জন্য মানুষের কাছে যেতে হবে। দেশ নিয়ে পরিকল্পনার কথা জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে, দুর্নীতি দমন করা হবে, বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ আছে। আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ব। এজন্য জনগণকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার। আমরা জনগণের সেবক হতে চাই, প্রভু হতে চাই না। প্রতিটি নেতাকর্মীকে মাঠে নামতে হবে। ঘরে ঘরে যেতে হবে। জনগণের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমরা প্রমাণ করব যে, বিএনপি জনগণের দল, জনগণের আস্থার দল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, শওকত আজম খাজা, মনোয়ারা বেগম মনি, মহানগর বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, মশিউল আলম স্বপন, বিএনপি নেতা কাউসার হোসেন বাবু, আজিজুল ইসলাম বাদল, তসলিম উদ্দিন সহ প্রমুখ।







