
বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রী জনাব আমিনুর রশীদ ইয়াসিন দেশের ৩ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি গঠিত সরকারের এই প্রভাবশালী সদস্য শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং ডিজিটাল আসক্তি থেকে মুক্ত করতে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল চাইল্ডহুড ফ্রেমওয়ার্ক’ (জাতীয় শৈশব কাঠামো) প্রণয়ন করছেন, যা বর্তমানে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধান উদ্যোগসমূহ:
মন্ত্রী ইয়াসিন তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থেকে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন:
১. খামার থেকে বিদ্যালয় (Farm-to-School) কর্মসূচি: স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য সরাসরি স্কুলগুলোতে সরবরাহ করা হবে। এর ফলে শিশুরা ভিটামিন-এ এবং আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে, যা তাদের মেধার বিকাশে সহায়ক হবে।
২. মানসিক স্বাস্থ্য ও স্ক্রিন-ফ্রি জোন:
শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি কমাতে এবং মানসিক অবসাদ দূর করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘গ্রিন সেফ জোন’ বা খেলার মাঠ নিশ্চিত করার জন্য নগর পরিকল্পনাবিদদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে বিনিয়োগ: মন্ত্রী মহোদয় বিশ্বাস করেন, আজকের ৩-১২ বছর বয়সী শিশুদের সঠিক যত্ন নিলে ভবিষ্যতে তারা উচ্চ-প্রযুক্তির শিল্প খাতে দেশের নেতৃত্ব দিতে পারবে।
মন্ত্রীর বক্তব্য:
প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে জনাব আমিনুর রশীদ ইয়াসিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, বরং ‘পুষ্টি নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা। ৩ থেকে ১২ বছর বয়সটি একটি শিশুর মস্তিষ্কের গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমরা যদি এখন তাদের সঠিক পরিবেশ ও খাবার দিতে পারি, তবেই ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সফল হবে।”
প্রভাব ও গুরুত্ব:
বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্ত্রীর এই উদ্যোগ কেবল স্বাস্থ্য খাতেই নয়, বরং দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা এর ফলে সমান সুযোগ নিয়ে বেড়ে ওঠার পরিবেশ পাবে।
এই পরিকল্পনাটি আগামী মাস থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশনগুলোতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হতে যাচ্ছে।
লিখেছেন:
মোহাম্মদ ইমরান চৌধুরী, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। লেখক চট্টগ্রামভিত্তিক একজন ফ্রিল্যান্স লেখক। তাঁর সাথে যোগাযোগ করা যাবে ই-মেইল: [email protected], মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ: +৮৮০১৮১৮৬৬৯০৬৫







