
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রথমবারের মতো ঔষধিগুণসম্পন্ন শীতকালীন ফসল বিটরুট চাষে সাফল্য পেয়েছেন এক কৃষক। উপজেলার সবজির প্রাণকেন্দ্র সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী ফকিরার চরে পরীক্ষামূলকভাবে এ ফসল উৎপাদন করা হয়েছে।
বিটরুট বা বিটকপি একটি শীতকালীন কন্দাল ফসল, যা উজ্জ্বল রং ও উচ্চ পুষ্টিগুণের জন্য বেশ জনপ্রিয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিটরুট রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়ক, হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে শক্তিশালী করতে প্রাকৃতিকভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ফকিরার চরের কৃষক মোহাম্মদ কাশেম কৃষি বিভাগের সহায়তায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ১০ শতক জমিতে বিটরুট চাষ করেন। বর্তমানে বাজারে এ ফসলের খুচরা দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক মোহাম্মদ কাশেম জানান, বীজ বপনের ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে সঠিক পরিচর্যা করলে বিটরুট সংগ্রহ করা যায়। এবার তিনি ১০ শতক জমিতে চাষ করে প্রায় ৯০০ কেজি বিটরুট উৎপাদন করেছেন। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ফসল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকাশ দাশ জানান, বিটরুট চাষের জন্য উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস। এ ফসল ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে এবং প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পূর্ণ সূর্যালোক প্রয়োজন হয়। দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি বিটরুট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী ফকিরার চরে প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে এ চাষ শুরু করা হয় এবং এতে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
কৃষিবিদরা মনে করছেন, কম খরচে বীজ বপনের প্রায় ৫৫ দিন পর প্রতি হেক্টরে প্রায় ২৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। শীতকালীন ফসল হলেও আমন ধান কাটার পর বোরো ধান রোপণের আগ পর্যন্ত পতিত জমিতেও স্বল্প সময়ে এ ফসল চাষ করা যায়।
এদিকে উপজেলার জয়কালী হাটে হেলাল নামের এক সবজি বিক্রেতাকে বিটরুট বিক্রি করতে দেখা গেছে। তিনি জানান, বাজারে এ ফসলের চাহিদা রয়েছে। ফকিরার চর থেকে প্রতি কেজি ৫৫ টাকায় কিনে এনে বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহমদ সরকার বলেন, কৃষির নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। কৃষকদের নতুন ও পুষ্টিকর ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো বিটরুট উৎপাদনে সফলতা পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে এ চাষাবাদ আরও সম্প্রসারণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







