কাতারে গ্যাস স্থাপনায় হামল: তীব্র ঝুঁকিতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ-ভারত

কাতারে গ্যাস স্থাপনায় হামল: তীব্র ঝুঁকিতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ-ভারত

কাতারের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দুইবার আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। হামলায় উপসাগরীয় এই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রটিতে ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে। এর প্রভাব ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত।

এসব দেশগুলোতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির এক বড় অংশই আসে কাতার থেকে। কাতারের প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস রাস লাফানে প্রক্রিয়াজাত ও সেখান থেকে রপ্তানি করা হয়। ফলে এসব দেশের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের এলএনজি আমদানির যথাক্রমে ৯৯ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ পায় কাতার থেকে। অন্যদিকে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত তাদের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি কাতার থেকে সংগ্রহ করে।

রাস লাফান স্থাপনার পরিচালক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুর দিকে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন স্থগিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কম্পানিটির অনেক বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি শুধু এলএনজি উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে সার উৎপাদনও হয়, যার মধ্যে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া রয়েছে। যা কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এখান থেকে সালফার ও হিলিয়ামও উৎপাদিত হয়, যা মাইক্রোচিপ তৈরির ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য গ্যাস। এই কেন্দ্র থেকে বিশ্বের মোট হিলিয়াম উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম বলে জানায় কাতার এনার্জি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email