
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এর উদ্যোগে উৎসব মুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য “ঈদ পুনর্মিলনী” অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) ঈদের দ্বিতীয় দিন নগরীর কে বি কনভেনশন হলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দুই পর্বের এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব ছিল সনাতনী, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য। দুপুরে তাদের জন্য আয়োজিত প্রীতিভোজে পরিবেশিত হয় পোলাও, খাসি ভুনা, মুরগীর রোস্ট, মাছের ভুনা এবং ঐতিহ্যবাহী ডালখাসী। সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ২য় পর্বে চট্টগ্রাম-৯ নির্বাচনী এলাকা, চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, মুক্তিযোদ্ধা সহ সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় আগত অতিথিদের চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি ফরমালিনমুক্ত দেশীকলা, মহেশখালীর পান এবং বাংলা সেমাই অনুষ্ঠানে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান আগত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রায় শরিক হয়েছি। যে গণতন্ত্র ১২ই ফ্রেবুয়ারী একটি বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান ইতোমধ্যে নানান কল্যানমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের পুরোনো চেহারা পরিবর্তনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পযর্ন্ত অফিস করে তিনি উদাহারণ সৃষ্টি করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং শীঘ্রই ই-হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আমার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এক কোটি তেষট্টি লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়েছে। প্রতিজন পরিচ্ছন্ন কর্মী ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার পেয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন, যা এখনো হয়নি। তাই এখন আমাদের মূল দায়িত্ব হলো সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করা।
তিনি আরও বলেন, যে ষড়যন্ত্র দানা বেধেঁছিল তা এখনো শেষ হয়নি। ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো ওত পেতে আছে। গণতান্ত্রিক শক্তিতে তারা সমস্যায় ফেলতে পারে। কিন্তু আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি এবং মিলেমিশে কাজ করি তাহলে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারি। আজকে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন- যেখানে জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভোট দিয়েছে- সেটা নিয়েও তারা বিভিন্নভাবে প্রশ্ন তুলছে। জনগণের কাছে আমার প্রশ্ন- ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা কি ভোট দিতে পেরেছেন? সেখানে সব দলের এজেন্ট দেখেছেন? সবাই সেখানে ভোট গণনা করেছিল? ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার থেকে সাক্ষর নিয়ে বের হয়েছিল? ঐ মুহূর্ত পর্যন্ত যারা আজকে প্রশ্ন তুলছেন তাদের কোনো অভিযোগ ছিল? তাহলে পরাজিত হওয়ার তাদের এত অভিযোগ কেন? যদি এজেন্টদের রেজাল্ট শিট এর সাথে ইসির রেজাল্ট শিটের মধ্যে কোন তারতম্য না থাকে, তাহলে তারা এগুলো কেন করছে? কারণ তারা ঘুরেফিরে আবারোও ষড়যন্ত্র করার চিন্তা করছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে- কোন অপশক্তি কাছে আমরা নতি স্বীকার করবো না। বাংলাদেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ আছে। ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে জনগণ প্রস্তুত আছে।
সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের পর বাংলাদেশে আবারও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা আজ গণতান্ত্রিক ও সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে ঈদে খুশি উদযাপন করতে পারছি। আমি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই। এই পবিত্র দিনে আমার প্রত্যাশা- জনগণের ভোটে নির্বাচিত নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খিত নিরাপদ বাংলাদেশ, সম্প্রীতির বাংলাদেশ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতন্ত্র সুসংহত হবে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে ও মানুষের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই পবিত্র দিনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আপনারা এসেছেন। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ ও ঋণী। আপনারা অনেক কষ্ট করে, ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের সেবক হিসেবে সুখে-দুখে পাশে থাকতে চাই এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস. এম সাইফুল আলম, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মোবিন, এস কে খোদা তোতন, আব্দুল মান্নান, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, ইসকান্দর মির্জা, গাজী সিরাজউল্লাহ, কামরুল ইসলাম, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, জেলা জিপি এড. কাশেম চৌধুরী, ড্যাবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালি, দীপক কুমার পালিত, বিশ্বনাথ বিশু, সে¦চ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু, সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, পিপি এড. সিরাজুল ইসলাম, জেসমিনা খানম, মোশাররফ হোসেন, এমদাদুল হক বাদশা, আয়ান শর্মা, বিশ্বজিৎ দত্ত বাবু, বিপ্লব পার্থ, রাজীব ধর তমাল, ডা. রাজীব বিশ্বাস প্রমুখ।







