
চট্টগ্রামের রাউজানের কাপ্তাই সড়ক যেন ক্রমেই মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সর্বশেষ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কমলারদিঘি কালীবাড়ির সামনে ব্যস্ত সড়কে আলপনা আঁকার সময় দ্রুতগামী একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় নিহত হন মরহুম নুরুচ্ছফার সন্তান মুহাম্মদ জুয়েল (৩৫)। তিনি পশ্চিম নোয়াপাড়ার কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে এলাকার কয়েকজন তরুণ সড়কে আলপনা আঁকছিলেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছিলেন জুয়েল। আলপনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল এবং ‘শুভ ১৪৩৩’ লেখাও সম্পন্ন হয়েছিল। এ সময় হঠাৎ দ্রুতগতির একটি পিকআপ এসে তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আরো বলেন – অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে জুয়েল নিজের জীবন হারিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন ভূঁইয়া বলেন, সড়কে আলপনা আঁকা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ আগেই সতর্ক করেছিল। তবুও দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই কাপ্তাই সড়কের মাইজ্জামিয়ার ঘাটা এলাকায় সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নজরুল ইসলাম (৪৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন।
একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় কাপ্তাই সড়কে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।







