
১৭ এপ্রিল আনুমানিক রাত ১০ টার পর স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঘটনা জানার পর পরই স্থানীয় সাংসদ চট্টগ্রাম-০৫ আসনের এম.পি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের নির্দেশে হাটহাজারী থানা পুলিশ রাত পোহাবার আগেই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে। এসময় ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আহত শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করে তার চিকিৎসা ও আইনি সহায়তায় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের কথা জানান।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেইটের সড়কের রেলক্রসিং সংলগ্ন ইসলামিয়া হোটেল থেকে খাওয়া শেষে শিক্ষার্থীদের হঠাৎ হৈ-হুল্লোড় করে বাসে উঠতে যাওয়া কে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় তাদের হৈ-হুল্লোড় দেখে স্থানীয় কয়েকজন গালিগালাজ করে তেড়ে আসে। শিক্ষার্থীরা গালিগালাজ কেন করছে এর প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে উপস্থিত সময় টিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়টির শহীদ ফরহাদ হল সংসদের বিজ্ঞান গবেষণা ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিন সরকার আবির ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আরও তিন শিক্ষার্থী আহত হন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আলীমুল শামীম, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব হোসেন ফরহাদ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও সময় টিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জাহিন সরকার আবির এবং আশিকুর ইসলাম। এর মধ্যে জাহিন সরকার আবির হাতে গুরুতর আঘাত পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এর আগে, গত ১৪ এপ্রিল অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করার প্রতিবাদ করায় সিএনজি চালকের হাতে মারধরের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স বিভাগের এক শিক্ষার্থী। এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর আবারও স্থানীয়দের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই তাৎক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনা জানার পর পরই, স্থানীয় সাংসদ চট্টগ্রাম-০৫ আসনের এম.পি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আহত শিক্ষার্থীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। এসময় ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আহত শিক্ষার্থীকে আশ্বাস প্রদান করেন যে, সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান। একই সাথে আহতের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন রাতেই প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে হাটহাজারী থানা পুলিশ হামলাকারী ইমনকে ভোর ৪ টার দিকে গ্রেফতার করে। তার আগে রাত ২টা ৩০ এর দিকে গ্রেফতার হয় পূর্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর হামলায় অভিযুক্ত নাঈম।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন দৈনিক দিনকালের চবি প্রতিনিধি আল ইয়ামিম আফ্রিদি কে বলেন, অন্যায়, অবিচার ও অপরাধের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স ছিল, আছে এবং থাকবে ইন শা আল্লাহ। অপরাধীর অপরাধী ব্যতীত আর কোন পরিচয় নেই। দ্রুত গতিতে বিচার সুনিশ্চিতের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী গণমাধ্যমকে জানান, একজন সাংবাদিকসহ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৩ জন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হচ্ছে বলে জানতে পারি। তাদের মধ্যে আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে এবং একজন চবি মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনা জানার পর আমরা পুরো টিম ঘটনাস্থলে যাই।
এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ওসি জাহিদুর রহমান জানান, মামলার দুই আসামি ইমন ও নাইমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে চালান করে দেয়া হবে।







