
প্রতিদিন শত শত ট্রলার ও নৌকা করে বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে চট্টগ্রামের নতুন মাছ বাজারে হাজার হাজার টন সামদ্রিক মাছ আসে। সেখানে ভোররাত থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলে জমজমাট মাছের ব্যবসা। বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলাইমানের দাবি, সেখানে মেীসুমে প্রতিদিন শত কোটি টাকার মাছের ব্যবসা হয়। সেখান থেকে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও প্রচুর মাছ রপ্তানী হয়।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের উৎপাতে ট্রলার নিয়ে মাছ ব্যবসায়ীরা বাজারে ভিড়তে চান না। বাজারের ব্যবসায়ীরাও চাঁদাবাজাদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে গদি ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে বাজারটির প্রাণচাঞ্চল্য কমছে। শত কোটি টাকার ব্যবসা লাটে উঠছে।
বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র যেটি চট্টগ্রামে নতুন মাছ বাজার নামে পরিচিত। এটি কর্ণফুলী নদীর কূল ঘেঁষে চাক্তাই এলাকায় অবস্থিত। ২০১৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে সমিতি লিজ নিয়ে এই মাছ বাজার প্রতিষ্ঠা করে। সেখানে বৃহৎ পাইকারী মৎস্য বাজার, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, কয়েকটি বরফকল, তারিগরি কারখানা, কমিউনিটি সেন্টার, মৎম্য আড়ৎ, মৎস্য স্টল, মার্কেট ও বিপুল সংথ্যক দোকানপাট রয়েছে।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলাইমানের অভিযোগ. ২০২৪ এর পর থেকেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু চিহ্নিত চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ নিয়ে আসা নৌকা থেকে জোড় করে টাকা নেয়া, না হয় মাছ চিনিয়ে নেয়া, ব্যবসায়ী এবং আড়তদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, লিজ নেয়া জায়গায় জোর করেন দখল স্থাপনা নির্মাণ করা সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছে। যার কারণে এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ব্যবসায়ীরা আর মাছ নিয়ে আসতে চাই না। তার অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সবসময় আতংকে আছে। এই চিহ্ন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পরও তাদেরকে কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, স্থানীয় নবাব খান, আতিক মাছি, ফারুক হোসেন, নূরুল কবির মাঝিসহ ২০-২৫ জনের সংঘবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের কারণে বাজারটি ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এতে দিনদিন মাছ ব্যবসায়ী ও মাছবাহী ট্রলার-নেীকা বাজারে আসছে না।
মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বড়ুয়ার বলেন, বাংলাদেশ যতগুলো সরকারী লাভজনক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ ৩য় স্থানে আছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের এই বাজার ধ্বংসের জন্য এই চক্রটি উঠে পড়ে লেগেছে। যার কারণে দীর্ঘদিনের এই বাজার হারিয়ে ফেলছে তার ঐতিহ্য। এই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা যখন তখন বাজারে প্রবেশ করে মাছ লোডিং এবং অনলোডিং করতে আসা বড় বড় নৌকা, ট্রাক, থেকে বিভিন্ন নামে বেনামে চাঁদা তুলছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে। তা না হলে বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাজারে পরিবেশ নষ্ট করছে। যার কারণে ব্যবসায়ীরা আর এই বাজারে প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। বড় বড় নৌকা আর মাছ নিয়ে আসতে চাই না এই বাজারে।
সোনালী যান্ত্রীক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, বাজারটিতে এখন বড় নৌকা, ট্রাক লোড-অনলোড হলেই চাঁদা দিতে হয়। তাই ব্যবসায়ীরা ওই বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসন চাঁদাবাজদের গ্রেফতার না করলে বাজারটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
ওই বাজাওে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক সরবরাহ করেন-মুরাদ মাঝি। তিনি বলেন, আমি ও আরও দুইজনের তিন শতাধিক শ্রমিক বাজারে কাজ করেন। শ্রমিকদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজরা টাকা, মাছ জোর করে নিয়ে নেয়। ফলে শ্রমিকরা ভয়ের মধ্যে আছে।







