ঋণসংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা

ঋণসংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় সংঘটিত আলোচিত মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (১৫ জুন) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, আনোয়ারা পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় সংঘটিত এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার পর আসামি আত্মগোপনে চলে যায় এবং একাধিক স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে রবিবার রাতে পটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিমন বড়ুয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যমতে, সুজন বড়ুয়ার ঋণসংক্রান্ত একটি স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে তিনি ভিকটিমদের বাড়ির পেছনে ওঁৎ পেতে ছিলেন। এ সময় এনি বড়ুয়া তাকে দেখে চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে মায়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে আসা প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় আসামি এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেখানো মতে ভিকটিমের বাড়ির পেছনের একটি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারের মাধ্যমে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email