
রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেলের আয় বৃদ্ধি ও ক্ষতি কমানো সম্ভব। এতে রেল পরিবারের সদস্যদের ন্যায্য দাবি দাওয়া বাস্তবায়নের সুযোগ আরো সুদৃঢ় হবে।
প্রতিমন্ত্রী আজ শনিবার চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রাসময় কমিয়ে আনতে নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ কমে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে। একইসাথে ঢাকা-কক্সবাজার রুটেও আরো উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, রেল ব্যবস্থার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে যাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদান, সময়নিষ্ঠতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আরো কার্যকর ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।
বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সদস্যদের উত্থাপিত দাবি-দাওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাস্তবায়নের জন্য বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে ইতিবাচকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, রেল পরিবারের সদস্যদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাদেরও রেলকে আরো উন্নত ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের সেবাই হবে রেলের প্রধান অঙ্গীকার এবং সেই সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমেই রেল পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুস সাত্তার সেলিমের সভাপতিত্বে ও সোসাইটির সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসাইন রতনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মো. সুবক্তগীন। সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, সোসাইটির সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।







