,

বকেয়া রাজস্ব আদায়ে আরো কর্মনিষ্ঠ ও আন্তরিক হতে হবে: ব্যবস্থাপনা পরিচালক

বকেয়া রাজস্ব আদায়ে আরো কর্মনিষ্ঠ ও আন্তরিক হতে হবে: ব্যবস্থাপনা পরিচালক

চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে ওয়াসার সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে এর আগে বকেয়া আদায়ে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে আটটি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ শুরু করে। এসব টিম বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকপের বিরুদ্ধেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।নতুন করে ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়াধারীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বড় অঙ্কের বকেয়া দ্রুত চিহ্নিত ও আদায়ের তৎপরতা, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ না করা গ্রাহকদের সংযোগের বৰ্তমান অবস্থা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো: জানে আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুতু দেওয়া হচ্ছে। গঠিত মনিটরিং টিমণ্ডলো এলাকাভিত্তিক কাজ করবে। নির্ধারিত এলাকায় বকেয়া থাকা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিল পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে যানান।
তিনি বলেন, মনিটরিং টিম মুলত মোটিভেশনাল কার্যক্রম করছে এর আগে আমরা ৫০ হাজার টাকার উর্ধ্বে বকেয়া আদায়ে কাজ করেছি এবার ২৫ হাজার টাকার উর্ধ্বে বকেয়াধারীদের নিয়ে সাত কর্মদিবসের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম শেষে এর ফলাফল মুল্যায়ন করা হচ্ছে। বকেয়া আদায়ে জোরালো তৎপরতার সুফল ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়েও দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার মাসিক রাজস্ব আদায় দীর্ঘ ১৭ বছর ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও জুলাইয়ে ২৬ কোটি ৮০ লাখ এবং আগস্টে ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। ওয়াসার ইতিহাসে জুলাইয়ের ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা এক মাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকড় করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সফলতা তাদের কাজে আরো উৎসাহিত করার জন্য প্রশংসাসূচক সনদ প্রদান করছি। আশা করছি, সকলে আরো কর্মনিষ্ঠ ও উৎসাহ নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে গঠন করা ঠিমের সকলকে কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ প্রশংসাসূচক সনদ এবং সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিন জন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড রুমে গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর) এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে জোারালোভাবে মাঠে কাজ করছে আটটি টিম। ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে এমন সব গ্রাহকের সংযোগ সরেজমিনে পরিদৰ্শন করে বকেয়া আদায়ের জন্য এই আটটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এসব টিম গত দুই মাস থেকে সাত কর্মদিবস মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
একই সঙ্গে বকেয়াধারী গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে ওয়াসার গ্রাহক ডাটাবেজ সমদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন গ্রাহকের কত টাকা বকেয়া, নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না, কত টাকা আদায় হয়েছে, বকেয়া না দেওয়ার কারণ কী এবং গ্রাহকের সর্বশেষ মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে গঠিত টিমগুলো। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার ২৫ হাজার টাকার উর্ধ্বে বকেয়াধারী সব গ্রাহবের সংযোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে বকেয়া আদায় কার্যক্রম তুরান্বিত করতে হবে। এজন্য সিষ্টেম এনালিষ্ট, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কৰ্মকৰ্তা, রাজম্ব তত্তাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে আটটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমকে মাঠেপর্যায়ে সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বকেয়া আদায়ের উদ্যোাগ নিতে হবে| একই সঙ্গে প্রতিদিনের কার্যক্রমের প্ৰতিবেদন তদারকি কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
প্রতিবেদনে হিসাব নম্বর, নোটিশ প্রদানের তারিখ, মোট বকেয়ার পরিমাণ, আদায়ের পরিমাণ, আদায়ের তারিখ, গ্রাহকের সর্বশেষ মোবাইল নম্বর এবং বকেয়া আদায় না হওয়ার কারণ উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে দীৰ্ঘদিন ধরে হালনাগাদ না থাকা গ্রাহক তথ্যও যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে। কোন এলাকায় কতজন বড় অংকের বকেয়াধারী রয়েছেন, তাদর প্ৰকত অবস্থান, সংযোগ সচল আছে কি না এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করছেন কি না, সে সম্পর্কেও একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরির সুযোগ হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশে আমাদের সকল বিভাগের জনবল এই বকেয়া আদায়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। মনিটরিং টিমগুলো দিনরাত পরিশ্রম করেছে বলে আজ ওয়াসার রাজস্ব আদায় রেকর্ড পরিমাণ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় আজ যে সম্মাননা সনদ প্রদান করলেন এতে সবার কাজের স্পৃহা আরো বেড়ে যাবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আমিন, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, প্রধান রজাস্ব কর্মকর্তা রুমন দে সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।