
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শতবর্ষীয় বিদ্যাপীঠ কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ পালন উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী, বিজ্ঞান ও গনিত অলিম্পিয়াড, কুইজ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও ব্যবহারিক জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সকালে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিমুল কান্তি মহাজন।
প্রদর্শনীতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও মডেল উপস্থাপন করে। মোট ২০টি স্টলে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রকল্প প্রদর্শিত হয়। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা সমাধান, পরিবেশ সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, পানি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
প্রতিটি স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্পের কার্যপ্রণালি ও ব্যবহারিক গুরুত্ব দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করার জন্য এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক এস এম জুলফিকার এবং উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সিনিয়র শিক্ষক মো. অছিউদ্দীন। বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং তাদের অনুসন্ধিৎসু, যুক্তিবাদী ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। হাতে-কলমে প্রকল্প তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামনস্কতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক এইচ এম মহিউদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিচালনা পরিষদ সভাপতি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির যে পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। ভবিষ্যতেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে।”
আয়োজকদের মতে, বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, অনুসন্ধিৎসা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০টি স্টলে শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল প্রকল্প প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী-২০২৬ সমাপ্ত হয়।







