“চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি” — মেয়র ডা. শাহাদাত

“চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি” — মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম, ১৮ জুন ২০২৬: এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের ৩য় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি এবং নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নই বর্তমান নগর প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় নগরীর জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে এবং চলতি বছরে তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৩৭টি খালের পাশাপাশি আরও প্রায় ৪০টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খালে রিটেইনিং ওয়াল ও গাইডওয়াল নির্মাণ এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাতকে দখলমুক্ত করে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে। প্রবর্তক মোড় থেকে জয়নগর পর্যন্ত ফুটপাত আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লার্ভিসাইড ব্যবহারের ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৩ সালে যেখানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছিল ৭৮ জনের, সেখানে ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য গবেষণা ও উন্নত ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। জিনোম সিকোয়েন্সিং, মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা চালুর ক্ষেত্রে অতীতে অনেক সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি, বিশেষায়িত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতকে আরও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা প্রদান করেছে। পাশাপাশি স্কুলগামী কিশোরীদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। ব্রেস্ট ক্যানসার, কোলোরেক্টাল ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ বলেন, চট্টগ্রামে মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস ও হিস্টোপ্যাথলজি সেবাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এসপেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ডায়াগনস্টিক সেবার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণামুখী কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, হামসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট রোগ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের ডায়াগনস্টিক খাতে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান তৈরি করেছে।

এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, মাত্র তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের ডায়াগনস্টিক ও গবেষণাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যখাতকে সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ, পরিচালক জাহেদুল আলম, জয়নব রুমা, ডা. কামরুন নাহার জলি ও আবদুল মান্নানসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্যখাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক, গবেষক, সাংবাদিক এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email