ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২০২০ সালে সংঘটিত বহুল আলোচিত গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি ও ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর চার আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল হোসেন।

তিনি জানান, গত ৮ জুলাই মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে আদালত প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক গৃহবধূকে তার স্বামীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আটজনই তৎকালীন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ছিলেন। বর্তমানে মামলার সব আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালে আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

এই মামলার আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম এবং মাহফুজুর রহমান।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email