জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ‘শহিদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত 'শহিদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ'-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও অঙ্গহানির শিকার ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার কাজ করবে। সম্ভব হলে আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বীর চট্টলার প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে ‘শহিদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত 'শহিদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ'-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ জুলাই দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতি ধরে রাখতে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনি এ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে সেখানে উপস্থিত হন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তাঁদের কে কখনও ভুলে যাব না ।

ইশরাক হোসেন বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের ওপর জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন ও হত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। কোটা বিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয় এবং তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে সেটি গণহত্যায় রূপ নেয়, যা আন্তর্জাতিকভাবেও এবং জাতিসংঘের দ্বারাও স্বীকৃত।

তিনি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ভবিষ্যতে যাতে সমাজে কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্দোলনের সব শহীদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে। সম্ভব হলে প্রতিটি জেলায় একটি করে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আন্দোলনে যে যাঁর অবস্থান থেকে অবদান রেখেছেন, তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে এ আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী দিনে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।

এ সময় শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email