পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চায় চসিক

পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চায় চসিক

চট্টগ্রামে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত স্যানিটারি ল্যান্ডফিল প্রকল্প বাস্তবায়নে কোরিয়া সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ লক্ষ্যে কোরিয়া এনভায়রনমেন্টাল ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (KEITI)-এর নিযুক্ত পরামর্শক হং (Hong) ও চোয়ে (Choe) বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিদর্শন করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে প্রস্তাবিত পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ল্যান্ডফিল প্রকল্পের বিভিন্ন দিক, সম্ভাবনা এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কোরিয়ান পরামর্শকরা জানান, প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিকদের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
মেয়র বলেন, আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও টেকসই চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে কাজ করছি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা উন্নত হবে না, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) প্রকল্পটির জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সহায়তা অনুরোধপত্র বাংলাদেশে অবস্থিত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসে প্রেরণ করেছে।
আলোচনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও সমর্থন জোরদার করার বিষয়ে সম্মতি জানায়।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বিদ্যমান দুটি উন্মুক্ত ডাম্পিং সাইট পর্যায়ক্রমে বন্ধ ও পরিবেশসম্মতভাবে পুনর্বাসন করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিবেশসম্মত পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নগরবাসী একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর পরিবেশের সুফল ভোগ করতে পারবেন।

নিচে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য সংযোজন করে একটি বিস্তারিত ও পেশাদার প্রেস রিলিজ দেওয়া হলো।
ছবির ক্যাপশন:
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন কোরিয়া এনভায়রনমেন্টাল ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (KEITI)-এর নিযুক্ত পরামর্শক হং (Hong) ও চোয়ে (Choe)।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email