
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন,জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয় । জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিস্ফোরণ।এই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম, হত্যা, মামলা-মোকদ্দমা ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ।
প্রতিমন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ আয়োজনে ফ্যাসিবাদ,জুলাই বিপ্লব ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাই এই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সুযোগ নেই। এর মূল শক্তি ছিল বাংলাদেশের জনগণ।তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন,তাদের ত্যাগকে যথাযথভাবে স্মরণ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই পরিবর্তন কোনো একটি দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, আত্মমর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ছিল। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই চেতনাকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় উন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।আলোচনা সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই-আগস্টের চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহনাওয়াজ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের সামনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক দল, সরকার ও দেশের জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক মতের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
এছাড়াও, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান,প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নসরুল কাদির,চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ,চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, পেশাজীবি নেতা ডাঃ খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট তারিক আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আব্দুস সাত্তার বিশেষ অতিথি বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।







