চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো গেলে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে -অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো গেলে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে -অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো গেলে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বন্দরে অতিরিক্ত ব্যয় এবং কাস্টমস প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই এসব খরচ কমানো এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যেতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সরকারের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে আয়োজিত বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিষয়ে কি পরিকল্পনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি আলাদা বিষয়। পোর্ট কে পরিচালনা করবে সেটি ভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও দেশি বা বিদেশি যে-ই পরিচালনা করুক, জনগণ, ব্যবসা, শিল্প ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষা করে একই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, যারাই পোর্ট চালাক, তাদেরকে এগুলো মেনে জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে একই পথে চালিত হতে হবে। পোর্ট কে চালাবে না চালাবে এটি আমাদের বিষয় নয়। যখন যার হাতে পোর্ট থাকবে সেটি দেশি হোক বা বিদেশি হোক তাদের এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সরকার, দেশের জনগণ লাভবান হবে। আগামী ২০৩৪ সালে আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কথা বলছি সেটির পথ সুগম হবে।কাস্টম এবং পোর্টের মধ্যে জয়েন্ট কমিটি হতে যাচ্ছে। উনারা যেকোনো সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙা করে জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি বাড়ানো, আমাদের শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধাগ্রস্ত না হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এ জন্য আমরা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসাকে সহজ করার জন্য, বিগত দিনে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা, বিভিন্ন রেগুলেশনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যে আমাদের বাজেটে ডিরেগুলেশনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ডিরেগুলেশন আরও কার্যকর করার জন্য, এটা বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক পদক্ষেপের মধ্যে একটি হচ্ছে আজকের সভা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে যৌথভাবে আলোচনা করে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কম সময়ে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, যা ব্যবসায়ীদের খরচ কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে।’
তিনি বলেন, আজ এনবিআরের চেয়ার‌ম্যান সাহেব এসেছেন, বন্দরের চেয়ারম্যান সাহেব আছেন। আমরা জয়েন্টলি সবাইকে নিয়ে বসে কোথায় কোথায় সমস্যাগুলো আছে, প্রত্যেকটি সমস্যা চিহ্নিত করেছি, প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান কী হওয়া দরকার সিদ্ধান্তও নিয়েছি এবং সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করেছি। কত সময়ের মধ্যে কোন কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে সেটারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে আগামী দিনে পোর্ট কাস্টম একসাথে কাজ করতে পারে। উনাদের একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনেক দিন আগে ছিল। আমরা প্রথমবারের মতো জয়েন্ট পোর্ট কাস্টম যাতে কাজ করতে পারে, পোর্টের সমস্যা আছে, কাস্টমসের সমস্যা আছে, উনারা একসাথে বসে সমাধান করতে পারে। এ সিদ্ধান্ত দুই পক্ষ মিলে নেওয়া হয়েছে। এগুলো খুব সহসা কার্যকর হবে আমি বিশ্বাস করি। যার ফলে চট্টগ্রাম পোর্ট ও কাস্টমসের কার্যক্রম অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, অনেক বেশি কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনে বাধা সৃষ্টি হলে খরচ বাড়ে এবং সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হয়। বন্দরের খরচ বাড়লে কিংবা কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হলে তার প্রভাব সরাসরি দ্রব্যমূল্যের ওপর পড়ে। তাই খরচ কমানো গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
গত কয়েক বছরে বহু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্যই হলো শিল্পকারখানাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, ব্যবসায়িক খরচ কমে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।’

কাস্টমসে অবৈধ পণ্য খালাসে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা চলবে না। কেউ যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের ক্ষেত্রে তার জন্য কোনো বিশেষ সুযোগ থাকবে না।’
এডিবির বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাব হবে না আগামী দিনে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে তারা দেখতে চায়। কারণ এখানে পোর্ট আছে, লজিস্টিকস হাব হবে, অন্যান্য উন্নয়নগুলো গড়ে উঠবে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে এসেছেন। স্টেক হোল্ডারদের ডাকা হয়েছে, সবার কথা শুনবেন। এ অঞ্চলে এডিবির বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email