
চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট সড়কে দ্রুত রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়ক সম্প্রসারণের জোর তাগিদ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় তিনি এই দাবি জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে কমিটির বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ডিভাইডার না থাকায় সম্প্রতি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই ঘটতে দেওয়া যায় না। তাই দেশের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই সড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন ও সড়ক সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
সরকারি জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে মীর হেলাল বলেন, বিগত আমলের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও চাটুকারিতার নজির আর হতে দেওয়া হবে না। ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে, যাতে জনগণ কোনো প্রকার ভোগান্তি বা অসন্তোষের শিকার না হয়। এ সময় প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট না করে এবং কৃষি জমি রক্ষা করে উন্নয়ন কাজ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)’র বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১.৮৪০৬৪ একর এবং চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২.২২৮৯৮৮ একর জমি জনস্বার্থে অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের ‘চাতুরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন-১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় জুলধা (১.৩৯০৩ একর), শিকলবাহা (৬.৯৭৩১ একর), শাহমীরপুর (১০.৭৫৫৯ একর) ও বাদলপুরা মৌজা (২.৫৮৯০ একর) এবং ‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সর্বমোট ৫৭.৯৩৮০ একর জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব মঞ্জুর করা হয়।
সভায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বিদ্যুৎ, রেলওয়ে ও শিল্প খাতের বেশ কিছু বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণও অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে ১৩২ ডাবল সার্কিট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নাজমা পেপার মিলস ও মেঘনা ইকোনমিক জোনের অনুকূলে ভূমি অধিগ্রহণ, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সড়ক উন্নয়ন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং যশোরে রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) জন্য জমি অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি জনকল্যাণমূলক হাসপাতাল স্থাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমোদন প্রদান করা হয়।
সভায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







