
চট্টগ্রাম নগরীতে পানি সরবরাহ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এটিএম বুথ স্থাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ড্রিংকওয়েলের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। চুক্তিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম এবং ড্রিংকওয়েল এর পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজ চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে পানির এটিএম বুথ স্থাপন। মহানগরীর যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে এবং যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাবার পানির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে পানির এটিএম বুথ স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ পানি আরও সহজলভ্য করাই হলো এই চুক্তির মুল উদ্দেশ্যে।
চুক্তি অনুযায়ী ড্রিংকওয়েল চট্টগ্রাম ওয়াসার পাম্প বা সরবরাহ লাইনের পানির গুণগত মান মূল্যায়ন করবে এবং পানির গুণগত মানের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পানি শোধন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার সহায়তায় চুক্তির সময়কালে এটিএম বুথগুলোর জন্য কেবল জমি প্রদান করবে; সমস্ত ক্যাপিটাল ইকুইপমেন্ট (মূলধনী যন্ত্রপাতি) ড্রিংকওয়েল দ্বারা অর্থায়ন করা হবে। জায়গা প্রাপ্তিতে সমস্যা হলে আলোচনা সাপেক্ষে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে জায়গা গ্রহণের বিষয়ে ড্রিংকওয়েল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অনুমতি ব্যতীত সরাসরি খুচরা পানি বিক্রি এবং বিতরণ করতে পারবে না; বুথগুলোতে সমস্ত পানি বিক্রি অবশ্যই সরাসরি ড্রিংকওয়েলের অনুমোদিত কর্মী বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত করতে হবে।
ড্রিংকওয়েল একটি সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) গ্যারান্টি দিবে যার অধীনে যেকোনো অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক ত্রুটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি কোনো বুথ ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে, তবে জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে ড্রিংকওয়েলকে একটি বিকল্প সাময়িক পানি বিতরণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ড্রিংকওয়েল শুধু একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছে না, বরং চট্টগ্রাম নগরীর পানি সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করার জন্য এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর এই অংশীদারিত্ব চুক্তি অত্যন্ত সময়োপযোগী। বর্তমানে ড্রিংকওয়েল ৬টি এটিএম বুথ পরিচালনা করছে যার মাধ্যমে অামরা জনগণের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। আমি মনে করি, পানির এটিএম বুথ শুধু পানি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা নয়। এটি মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন পানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ বাস্তব উপকার বয়ে আনবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরবর্তীতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন এবং যেসব এলাকায় লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ খাবার পানির সংকট রয়েছে, সেখানে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমকে উন্নত ও গতিশীল করতে বিলিং অ্যাপস তৈরি, ওয়াসার পানির লাইন সম্প্রসারণ সহ আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এতে ড্রিংকওয়েলের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজ চৌধুরী বলেন, আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ড্রিংকওয়েল এর মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সুফল সরাসরি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার বলেন, পানির এটিএম বুথ শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক নিরাপত্তা সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই পানি সংকটাপন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ড্রিংকওয়েল চট্টগ্রাম নগরীর পানি সেবা খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ওয়াসার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগালে জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে বলে আমি আশাবাদী।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, প্রধান রজাস্ব কর্মকর্তা রুমন দে সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। ড্রিংকওয়েল এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হেড অব সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারিং অাবদুস সাত্তার, প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: মাহফুজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।







