,

চট্টগ্রামে মঙ্গলবার প্রথমবার দুর্গাপূজামন্ডপ পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রামে মঙ্গলবার প্রথমবার দুর্গাপূজামন্ডপ পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো দেশের কোনো সরকার প্রধান চট্টগ্রামের দুর্গাপূজামন্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নগরীর রহমতগঞ্জের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের পূজামনাডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর। এ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত। গভীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীকে বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ। ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক জে এম সেন হলে এসেছিলেন । মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবার আসছেন তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে চট্টগ্রামের সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে নগরীতে চলছে প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে শুরু হয়েছে সাজ সাজ অবস্থা। গত দুই দিন থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাটের খানাখন্দ সংস্কার ও রং করার কাজ শুরু হয়েছে।আন্দরকিল্লা, চেরাগী মোড়, জামালখান, আসকার দিঘি পাড়, ডিসি হিল ও কাজির দেউড়ি সার্কিট হাউস এলাকা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক ডিভাইডার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রং করা হচ্ছে। একইভাবে এসব এলাকার সড়কগুলো সংস্কার করে চকচকে করা হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জে এম সেন হলের পূজাম-পে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি দুর্গাপূজার আয়োজন ঘুরে দেখবেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর তাঁর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়ার কথা রয়েছে । শারদীয় দুর্গোৎসব হচ্ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে সব ধর্মের লোকজন এই উৎসবে অংশ নেয়। দেশের সরকারপ্রধান, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতিবিদেরা দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মের লোকজনের সঙ্গে আনন্দ-উৎসবে অংশ নিয়ে থাকেন। দেশের সরকারপ্রধানেরা বেশির ভাগ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে অংশ নেন। এবার প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে দুর্গোৎসবে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি চট্টগ্রাম ছাড়াও রংপুর ও রাজশাহী জেলায় দুর্গাপূজা পরিদর্শন করবেন।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর নিয়ে সকলের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাগছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘœ, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের প্রত্যাশা করে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরের জে এম সেন হল পূজাম-প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দলের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে আমাকে দুর্গাপূজা উদযাপন কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমার প্রত্যাশা, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করবেন।পাশাপাশি পুরো চট্টগ্রামবাসীও যেন এই আনন্দে শামিল হতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকবেন-এটাই প্রত্যাশা। বিএনপির নেতাকর্মীরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর প্রসঙ্গে শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সামরিক বিমানে চট্টগ্রামে আসবেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নগরের জে এম সেন হল পূজাম-পে যাবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চট্টগ্রামের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যের বার্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে রায় দেওয়ায় দুর্গোৎসবে সংহতি, শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাতে চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের পূজায় আসছেন তিনি। তাই দলীয় কোনো কর্মসূচি এখানে রাখা হয়নি।এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান,সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
রেইনবো নেশন বা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বার্তা নিয়ে তিনি জেএম সেন হল পূজাম-প পরিদর্শনে আসছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সব মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। রেইনবো নেশনের এই ধারণা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন।

তিনি শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজার পূজাম-প পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের পর তিনি ৫০০ সনাতনী নারীর হাতে পূজার উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
দুর্গাপূজাকে নির্বিঘœ করতে গৃহিত কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র বলেন, নগরীতে পূজা উদযাপন সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে এবং চলছে। এর মূলে রয়েছে পূজাম-পের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘেœ যাতায়াত এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বসে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেসব সিদ্ধান্তের আলোকে চসিকের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। আমি সবাইকে নিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিকল্পনামাফিক কাজ করছি।
তিনি বলেন, নগরীর আন্দরকিল্লা, দেওয়ান বাজারসহ যেসব এলাকায় পূজাম-প আছে সেগুলোর শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। পূজাম-প ও এর আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে না দেওয়ার জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগ কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।সিএমপি কমিশনার বলেন, পূজাম-পগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফর করবেন। সফরকে কেন্দ্র করে প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।হাসান মো. শওকত আলী বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় রয়েছে বলে জানান।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর পূজাম-পগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।পাশাপাশি গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার মনিটরিংও চালানো হচ্ছে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরের জে এম সেন হল পূজাম-প পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।তিনি বলেন, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে জে এম সেন হল পূজাম-প পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন চট্টগ্রামবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।তাঁর সফর ঘিরে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনা ও সমন্বয়ে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথের ভাষ্য অনুযায়ী, জে এম সেন হলের দুর্গাপূজায় এর আগে কোনো সরকারপ্রধান পরিদর্শনে আসেননি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে তাঁরা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। সনাতন সম্প্রদায়ের নেতাদের মতে, এ ধরনের সফর বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
নগরীর অন্যতম প্রধান দুর্গাপূজার কেন্দ্র জে এম সেন হল প্রতিবছরই পূজার সময় নানা বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এখানে সাংস্কৃতিক আয়োজনও অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে এবার আয়োজনস্থলে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর প্রত্যাশা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা আরও জোরালো হবে। তবে সফরটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামে দুর্গাপূজাম-প পরিদর্শনকারী প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নাম যুক্ত হবে এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আয়োজকেরা।