
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেছেন,আগামী ১৮ নভেম্বর ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা হীরকজয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে হীরকজয়ন্তীতে অংশগ্রহণের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন শুরু হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক উদযাপনকে সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে আমরা সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
তিনি বলেন,১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্ষে ঘেরা এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং প্রগতিশীল চিন্তার এক অনন্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, গত ছয় দশকে এই বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য দক্ষ, মেধাবী ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলেছে। এখানকার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, চিকিৎসা, প্রকৌশল, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংবাদিকতা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের সাফল্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং দেশ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে বলে মনে করি।
উচ্চশিক্ষার প্রসার ও গবেষণার বিকাশেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান উল্লেখযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও গবেষণাকেন্দ্রের মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টি, নতুন ধারণার বিকাশ এবং সমাজের বহুমাত্রিক সমস্যা সমাধানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে জীববিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক গবেষণা অবকাঠামোর বিকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি ও হীরকজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান-এর লিখিত বক্তব্য রাখেন।
আমরা চাই, এই উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতহাস, ঐতিহ্য ও অর্জন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনের জন্য একটি জ্ঞানভিত্তিক, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত হোক।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম,বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি লয়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ।সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ হীরকজয়ন্তী উদ্যাপনকে সফল করতে তাদের সুচিন্তিত মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা এ আয়োজনকে অর্থবহ ও সবার অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি আরো বলেন,বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষার মান নির্ভর করে শুধু ডিগ্রি অর্জনের ওপর নয়; বরং গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ওপরও। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা লাভের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করবে। গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলামনাই এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হীরকজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা সফল করতে সকল এলামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্মানিত প্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ, আপনাদের লেখনী ও প্রচারের মাধ্যমে এই আয়োজনের বার্তা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে সহযোগিতা করবেন।
পরিশেষে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছরের গৌরবময় পথচলায় যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও মানবিক উৎকর্ষের পথে আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ।







