
পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন পোশাকশ্রমিকেরা। কেউ চোখ মুছছেন, কেউ সহকর্মীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তাদের মুখে একটাই কথা, ‘আর হয়তো কোনোদিন দেখা হবে না আমাদের!’ গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওটি ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপের প্রথম কারখানা প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর।
কারখানা বন্ধের খবরে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিষয়টিকে গুজব বলে দাবি করেছেন প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। তিনি বলেন, ‘এসব মিথ্যা। একটু কুচক্রী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।’
তবে কারখানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, কয়েক বছর আগে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পুনরায় পরীক্ষা করায়। এতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বিশেষজ্ঞরা ভবনটি ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন। শ্রমিকদের জীবন ও কারখানার মালামালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের সব পাওনা পরিশোধ করেই কারখানা বন্ধ করা হবে। পাওনা পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ নভেম্বর।’কারখানাটির কর্মচারী মুহাম্মদ হাসিব বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর গার্মেন্টসে চাকরি করেছি, কিন্তু এবার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে চলে যেতে হবে।’
অন্যদিকে প্যাসিফিক জিন্স নির্বাহী-টেকসই উন্নয়ন কর্মকর্তা সুকণ্যা সেন চৈতী বলেন,প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের শুধুমাত্র একটি কারখানার (প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড, ইউনিট-১) এর একটি ভবনের কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেটি গ্রুপের সবচেয়ে পুরাতন কারখানা ভবন। RSC এর রিপোর্ট অনুযায়ী ওই ভবনটি এর কাজ চালানোর জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ার কারনে, কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মানের সিন্ধান্ত নিয়েছে ।কারখানাটিতে কর্মরত সকল কর্মীদের যার যার পাওনা সুষ্টুভাবে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং কর্মীদের অনেক সম্মান এর সাথে বিদায় দেয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে খুবই বিরল। এর পাশপাশি নতুনভাবে কারখানা চালু হলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।এখানে উল্লেখ্য যে, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের (প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড, ইউনিট-২) সহ বাকি ৮ টি কারখানা চালু আছে।গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য জানুন। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করুন।







