
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে শঙ্খ নদের বালু তুলে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দিন-রাত ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, আর এসব বালু সরকারি কাজে ব্যবহারের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে চলে যাচ্ছে ব্যক্তিগত ভরাটকাজে। এতে নদীর বাঁধ, সড়ক ও আশপাশের স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার রায়পুর বাইন্ন্যার দীঘি এলাকার সেতুর পাশ এবং বাঁধসংলগ্ন অংশে দেখা যায়, নদী খনন করে বিপুল পরিমাণ বালু তোলা হয়েছে। এসব বালু বড় বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। সেখান থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক বালু বহন করে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে বালু উত্তোলনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হলেও আসলে এটি নিয়মবহির্ভূত বালুবাণিজ্য।
দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি গোপনে বালু ব্যবসা চালিয়ে আসছেন জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প তাদের বাণিজ্যকে আরও প্রশ্রয় দিয়েছে। বাঁধসংলগ্ন স্থান থেকে অতিরিক্ত বালু তোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যয়বহুল সুরক্ষা অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাদের শঙ্কা-এভাবে বালু তুলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নদীভাঙন দেখা দিতে পারে।
ট্রাকচালকদের মতে, সড়ক উন্নয়নের জন্য অল্প পরিমাণ বালু ব্যবহার করা হলেও বেশিরভাগ ট্রাক বালু বিক্রি করা হয় স্থানীয় ভরাটকাজে। এতে গ্রামীণ সড়কগুলো ভারী যানবাহনের চাপে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারও যথাযথ রাজস্ব হারাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক বলেন,”শঙ্খ নদের বাঁধ রক্ষায় প্রতিবছর কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বালু তোলা হলে সেই সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। যেখানে আমরা ব্লক বসাচ্ছি, ঠিক সেখান থেকে বালু উঠালে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, “শঙ্খ নদ থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি,নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও বাঁধ রক্ষায় অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে।







