চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি, স্থবির কার্যক্রম

চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি, স্থবির কার্যক্রম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ থাকায় আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে জেটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে অংশ নেন।

বন্দর সূত্র জানায়, কর্মবিরতির ফলে জিসিবি টার্মিনাল, সিসিটি ও এনসিটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে বন্দরে নোঙর করা একাধিক জাহাজ নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় জাহাজ জট এবং অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন জানান, ‘কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মচারী অংশ নিয়েছেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। এই আন্দোলনের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।’
কর্মবিরতির কারণে কনটেইনার জট বেড়েছে এবং সময়মতো কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্য না পাওয়ায় শিল্পকারখানা ও রপ্তানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বন্দরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক দিনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া দ্রুত বিচার আইন ২০০২, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা–১৯৭৯ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা–১৯৯১ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব কর্মকাণ্ড বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

বন্দর পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অফিস চলাকালে মিছিল ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববারও ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ সময়ে এনসিটিতে বেসরকারি ডিপো থেকে আনা কিছু রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার সীমিত আকারে জাহাজে তোলা হচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email