দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর অচল

দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর অচল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অচলাবস্থার চলছে। দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘট পালিত হয়েছে।অচলের কারণে বন্দরের ভেতর মাল বাহীকোন যানবাহন চলাচল করেনি।অন্যদিকে,বন্দর সংলগ্ন এলাকায় এক মাসের জন্য মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।অন্যদিকে অন্দোলনরত ৪ কর্মচারীকে বদলীর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিক–কর্মচারীদের আশ্বস্ত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হলেও বন্দরের কোনো শ্রমিক–কর্মচারীর চাকরি যাবে না। সবার চাকরির নিশ্চয়তা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রদান করছে মর্মেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। পরে মধ্যরাতে ওই এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) টার্মিনালের বার্থ অপারেটররা জানান, শ্রমিক ও কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় জিসিবি জেটিতে থাকা একটি কনটেইনারবাহী জাহাজসহ চারটি জাহাজের পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ৪ কর্মচারীকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়েছে।গতকাল যাদের বদলি করা হয়েছে তারা হলেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উচ্চ হিসাব সহকারী আনোয়ারুল আজীম এবং প্রকৌশল বিভাগের খালাসি ফরিদুর রহমান।

এর মধ্যে ইব্রাহীম খোকন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক, হুমায়ুন কবীর একই সংগঠনের প্রচার সম্পাদক, আনোয়ারুল আজীম ও ফরিদুর রহমান বন্দর শ্রমিক দলের সদস্য। তারা এনসিটি বিদেশিদের ইজারার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতকাল বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে রোববার যোগদান করতে বলা হয়েছে।

বারিক বিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত সরেজমিন দেখা গেছে, বারিক বিল্ডিং এলাকায় স্ক্র্যাপবাহী গাড়ির জট লেগেছে। বন্দরের গেইটগুলো খোলা। গাড়ি প্রবেশ করছে না, বেরও হচ্ছে না।অলস সময় কাটাচ্ছেন বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষী ও পুলিশ সদস্যরা।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, জিসিবি, সিসিটি এবং এনসিটিসহ সব টার্মিনালই অচল রয়েছে। আন্দোলনকারীরা গতকালও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।

কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালের জেটিতে জাহাজ থেকে কার্গো ও কনটেইনার ওঠা-নামার কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারার বিরোধিতা করে শনিবার শ্রমিক দলের ডাকা আট ঘণ্টার ধর্মঘটে দিনভর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অচল ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগেও চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হলে, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একইভাবে মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সিএমপি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email