গুপ্ত সংগঠনের নেতারা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে-তারেক রহমান

গুপ্ত সংগঠনের নেতারা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে-তারেক রহমান

একাদশ ঘণ্টার প্রচারণায় উত্তাল এখন কীর্তনখোলা তীরের বরিশাল নগরী। বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরের বান্দ রোডের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি তাঁর বক্তব্যে এক গুপ্ত সংগঠনের কঠোর সমালোচনা করেন, যাদের তিনি আধুনিক বাংলাদেশের নতুন জালেম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

হেলিকপ্টারে চড়ে বরিশাল স্টেডিয়ামে নামার পর সড়কপথে জনসভাস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কোনো রাখঢাক না করেই আক্রমণ করেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে।

তিনি বলেন, প্রিয় ভাইবোনেরা, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল, যাদের জনগণ একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, যাদের গুপ্ত পরিচয় আপনারা জানেন, সেই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা আজ নতুন জালেমরূপে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে দেশের মানুষ স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, সেখানে নতুন কোনো জালেমকে স্থান দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি এক রাজনৈতিক নেতার নারী সমাজকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি ইসলামের ইতিহাস টেনে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিবি খাদিজা (রা.) এর উদাহরণ দেন।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এর স্ত্রী বিবি খাদিজা একজন সফল ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী নারী ছিলেন। নবীজি স্বয়ং তাঁর ব্যবসায়িক কাজে যুক্ত ছিলেন। অথচ আজ ইসলামের দোহাই দিয়ে নারীদের কলঙ্কিত শব্দে জর্জরিত করা হচ্ছে। তিনি হযরত আয়েশা (রা.) এর ভূমিকা ও বদরের যুদ্ধে আহতদের সেবায় নারীদের বীরত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, যাদের মা বোনদের প্রতি সম্মান নেই, তাদের কাছে বাংলাদেশ অগ্রগতি আশা করতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারে পারিবারিক কার্ড পৌঁছে দেবে।

বিগত শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিশিরাতের ভোট এবং আমি ডামি নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মুখে সেই নিশিরাতের কারিগররা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে জনগণের বাংলাদেশ গড়ার ভোট, যেখানে প্রতিনিধিরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।

বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য তারেক রহমান বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি দ্বীপ জেলা ভোলার সাথে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষায় সেতু নির্মাণ এবং ভোলায় একটি অত্যাধুনিক মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কথা বলেন।

এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং মাছের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শীতলীকরণ কেন্দ্র ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন। ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করলেও অনেক কাজ এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে, যা বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সম্পন্ন করবে বলে তিনি জানান।

বরিশাল নগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং নুরুল হক নুরের মতো কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারেক রহমানের এই ভাষণ দক্ষিণাঞ্চলের নির্বাচনী রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্ম ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে নারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার নিয়ে তাঁর বক্তব্য সুশীল সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের নজর কেড়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email