
‘সালাম-বরকত, রফিক-জব্বার তোমরা মোদের ভাই/ তোমাদের সেই ত্যাগের দিনটি আমরা ভুলি নাই’। ফেব্রুয়ারি মাস এলে যেন ভাষা শহিদদের কথা স্মরণে আসে। যারা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন তারা তো বাঙালির জীবনযাপনে প্রতিনিয়ত ঘুরে-ফিরে আসে। তাদের জীবন উৎসর্গ করার কারণে আমরা একে অন্যকে সহজে বলতে পারি, আসুন বসুন ভাই।
আসলে বাংলা ভাষা এক দিনে হঠাৎ করে বাঙালির জীবনে আসেনি। এসেছে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও জীবনের বিনিময়ে। কচি তাজা রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি। যে কারণে অমর শহিদ ভাইদের স্মরণ করে বাঙালিরা অনেক সাহস পায়।
বাংলা ভাষার পথ ধরে এসেছে স্বাধীনতার সংগ্রাম। যে কারণে বলতে পারি, আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। একুশ শুধু বাংলা ভাষার প্রচলন নয়। একুশ আমাদের মাথা নত না করার চেতনা। চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে যেমন এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে তেমনি ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটেছে। একুশের সঙ্গে ১৯৭১-এর মুুক্তিযুদ্ধ যেমন একে অন্যের পরিপূরক, তেমনি ফ্যাসিবাদের প্রতিবাদের সোচ্চার হয়েছিল ছাত্র-জনতাসহ আপামর মানুষ।
একুশ আমাদের পথ দেখিয়েছে। সালাম-বরকত, রফিক-জব্বারের মতো নাম না জানা লাখ লাখ শহিদানের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা। আবার আবু সাইদসহ আরও শত শহিদের রক্তের পথ মাড়িয়ে পাওয়া ফ্যসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে যুগে যুগে আসবে আমাদের শহিদ ভাইয়েরা। যুগান্তরের অমর তারা, মরণ কভু নাই। আমরা গর্ব করি একুশে ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে। কবির কণ্ঠে বলতে হয়, ‘তোমরা দেশের মনি ও ভাই বাঙালিদের প্রাণ/ দিলে মোদের বাংলা ভাষা জীবন করে দান’।







