চট্টগ্রামে ৬৫৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

চট্টগ্রামে ৬৫৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। প্রতীক পাওযার পর থেকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। শুধু প্রার্থীরাই নন, তাদের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। কোথাও সাবেক মন্ত্রী বাবা ছেলের জন্য ভোট ছেয়েছেন, আবার কোথাও বাবার জন্য মাঠে নামছেন সন্তানরাও। এ যেন নির্বাচনী প্রচারণায় এক ভিন্ন আমেজ ছিল এ বার।অন্যদিকে চট্টগ্রামে ১৯৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ বার ১৬ আসনের বড়-ছোট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১১৫ জন প্রার্থীসহ তাদের স্বজনদের প্রচারণা উত্তাপ ছড়ায়। প্রচারণার এসে যুক্ত হয়েছেন প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তানরা। অনেক প্রার্থীর পক্ষে মা-বোনও গণসংযোগ করছেন। প্রার্থীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
অন্যদিকে ১৬ আসনে এ বার প্রার্থীদের প্রচারণায় দেখা গেছে, একদিকে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে আছে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও। সরগরম ছিল প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০৭টি সিএমপির ১৬ থানার অধীনে। অবশিষ্ট ১৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার অধীনে। পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পুলিশি ভাষায় এসব কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীনে থাকা ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে ৭ দিনের জন্য। ৭ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, ভোটের চার দিন আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরে দুদিন ৮ ফেব্রুয়াারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ, কম গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা এসব কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পরিপত্র অনুযায়ী, মহানগরীর অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে চারজন করে অস্ত্রসহ পুলিশ, দুজন অস্ত্রধারী আনসার, প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও মহিলা আনসার মোতায়েন থাকবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে তিনজন করে অন্ত্রধারী পুলিশ, দুজন অস্ত্রধারী আনসার, প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও মহিলা আনসার মোতায়েন থাকবে।

জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশের অধীনে থাকা এক হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৩টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬৮৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩২৭টি কেন্দ্রকে তারা সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সিএমপির সংশ্লিষ্ট জানা গেছে, সিএমপির অধীনে থাকার মোট ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, ১৫০টি কম গুরুত্বপূর্ণ ও ১৪৭টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালী থানার অধীনে ৫২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চকবাজার থানার ১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে চারটি করে মোট আটটি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।সদরঘাট থানার ২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং পাঁচটি সাধারণ ও ৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চান্দগাঁও থানার ৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৯টি কেন্দ্রকে সাধারণ, পাঁচলাইশের ৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১০টি ৩টি সাধারণ ও ১০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, খুলশী থানার ৪৭টির মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্রই অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার ৫৬টির মধ্যে ১৮টি করে কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ও ২০টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার ৪৮টির মধ্যে ১৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৯টি সাধারণ ও ১১টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হালিশহর থানায় মোট ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬টি সাধারণ এবং ৪টি গুরুত্বপূর্ণ, পাহাড়তলীর ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আকবরশাহ থানার ২৩টি কেন্দ্রের প্রত্যেকটিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে।

এদিকে বন্দর থানা এলাকার ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এ থানা এলাকার ২৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৩টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ। ইপিজেড থানার ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি সাধারণ ও ১৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ, পতেঙ্গার ২৫টির মধ্যে সাতটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, একটি সাধারণ এবং ১৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কর্ণফুলী উপজেলার ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২৬টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তালিকা তৈরি করেছে সিএমপি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জোরারগঞ্জ ও মিরসরাই থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১ আসনে ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৬টি। এরমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোন কেন্দ্র নেই। একইভাবে ফটিকছড়ি আর ভূজপুর থানা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ আসনের ১৪০টি কেন্দ্রের তিনটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। সন্দ্বীপ নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী) আসনে ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮, চট্টগ্রাম-৫ (হাটাহাজারী-সিটি কর্পোরেশন আংশিক) আসনে ১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ৯৫ কেন্দ্রের মধ্যে ২১, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ৯২ কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ আংশিক-চান্দগাঁও আংশিক) আসনে ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ২৫, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১৩ কেন্দ্রের মধ্যে ২৪, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ১১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশসাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১০০ কেন্দ্রের মধ্যে ৯, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১৫৭ কেন্দ্রের মধ্যে ২২ এবং চট্টগ্রাম ১৬ (বাঁশখালী) আসনে ১১২ কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এরমধ্যে সন্দ্বীপের ৮৩টি, চন্দনাইশের তিনটি, সাতকানিয়ার একটি এবং বাঁশখালীর তিনটি কেন্দ্রকে দূর্গম এলাকার কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এছাড়া যেসব এলাকাকে দুর্গম হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে তা হলো, খাগড়াছড়ির পানছড়ি, মহালছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙা, রামগড়, গুইমারা, লক্ষীছড়ি, খাগড়ছড়ি সদর, দিঘিনালা, রাঙামাটির নানিয়ারচর, বরকল, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি সদর, রাজস্থলী, লংগদু, কাউখালী, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বান্দরবানের থানচি, রোয়াংছড়ি, আলিকদম, নাইক্ষংছড়ি, বান্দরবান সদর, রুমা, লামা, চট্টগ্রামের স›দ্বীপ, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ। দুর্গম এলাকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য, অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন সাধারণ আনসার ভিডিপি সদস্য, প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় অস্ত্রসহ একজন আনসার সদস্য, অস্ত্রসহ সহকারী সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষসহ ১০ জন আনসার সদস্য ও দুইজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email